পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে: মীর হেলাল উদ্দীন

উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৯ মে ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, বর্তমান সরকার পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের কল্যাণ ও দেশের সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

গতকাল ঢাকার বেইলি রোড-এ অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনের সভাকক্ষে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সংক্রান্ত এপ্রিল মাসের সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপি’র মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেইজে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কাঁদা ছোড়াছুড়ি বা দোষারোপ করে উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রকৃত উন্নয়নের জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারের বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার কাজে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র খাদ্যশস্য বা সীমিত অর্থ বরাদ্দ দিলেই উন্নয়ন হয় না। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য সমষ্টিগতভাবে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর উন্নয়নগত গতি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি সেক্টরে শক্তভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে এবং কর্মকর্তাদের স্বপ্রণোদিত হয়ে কাজ করতে হবে।

মীর হেলাল উদ্দীন আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের প্রকৃত জীবনমান উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষার প্রসার ও আত্মনির্ভরশীলতা তৈরির লক্ষ্যে কার্যকর প্রকল্প হাতে নিতে হবে। টেকসই উন্নয়নের জন্য পুরাতন রীতিনীতি বাদ দিয়ে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি।

সভায় জানানো হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে ৮৭২ কোটি ৪০ লাখ ৭৯ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে জিওবি খাতে ৭৩৯ কোটি ৭৯ লাখ ৭৯ হাজার টাকা এবং পিএ খাতে ১৩২ কোটি ৬২ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বর্তমান অর্থবছরে এডিপিভুক্ত ৮টি প্রকল্প ও ৩টি উন্নয়ন সহায়তা অনুমোদিত রয়েছে। এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্প ও উন্নয়ন সহায়তা খাতে ৪১০ কোটি ২৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ছাড় করা হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ৪৭ দশমিক ০২ শতাংশ। একই সময়ে ব্যয়ের অগ্রগতি হয়েছে ৩৪৩ কোটি ৬৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৩৯ দশমিক ৪০ শতাংশ।

সভায় পার্বত্য এলাকায় তুলা চাষ বৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান, সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।

মোহাম্মদ মিজানুর রহমান-এর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন অনুপ কুমার চাকমা, মো. মনিরুল ইসলাম, কংকন চাকমা, অতুল সরকার, থানজ লুসাই, কাজল তালুকদার এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।