স্টাফ রিপোর্টার | ২৪ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিপন্ন লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষায় বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার চীনের দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে World Economic Forum-এর ১৭তম ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’-এ ‘শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপে ক্লাইমেট লিডারশিপ’ শীর্ষক অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন সময় এসেছে জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব কাজে এবং অঙ্গীকারকে দৃশ্যমান ফলাফলে রূপান্তর করার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন COP31 এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং বাংলাদেশও তার দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি বলেন, জলবায়ু কার্যক্রমকে বাংলাদেশ কোনো ব্যয় হিসেবে দেখে না; বরং এটি সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা ও যৌথ ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। একটি সবুজ, নিরাপদ, টেকসই ও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ গঠনে বৈশ্বিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো দেশ একা জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে পারে না। এজন্য প্রয়োজন অংশীদারিত্ব, প্রযুক্তি হস্তান্তর, অর্থায়ন এবং সম্মিলিত অঙ্গীকার। কপ-৩১ ও কপ-৩২ সামনে রেখে তিনি তিনটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন—
- ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ক্ষয়ক্ষতি তহবিল দ্রুত বাস্তবায়ন;
- ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য ও চাহিদাভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা;
- প্রশমনের পাশাপাশি অভিযোজন কার্যক্রমকে সমান গুরুত্ব দেওয়া।
তিনি উল্লেখ করেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রয়োজন মেটাতে বর্তমান জলবায়ু অর্থায়ন এখনও পর্যাপ্ত নয়।
বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন জলবায়ু উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পানি নিরাপত্তা ও কৃষি সহায়তায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ এবং তিস্তা ব্যারেজ আধুনিকায়নের উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণ ও সংরক্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। ‘এক শিক্ষার্থী, এক গাছ’ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও তরুণদের সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার বন, জলাভূমি ও উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণে কাজ করছে। একই সঙ্গে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, পরিবেশবান্ধব নির্মাণ ব্যবস্থা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সৌর, বায়ু, বর্জ্য ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎস থেকে দেশের অন্তত ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পাটজাত পণ্য, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং অন্যান্য সবুজ শিল্পকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সবুজ বিনিয়োগ ও কার্বন ক্রেডিটের সুযোগ বাড়াতে জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলা হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড (LEED) প্রত্যয়িত কারখানার মধ্যে বর্তমানে ৬৯টিই বাংলাদেশের, যা দেশের সবুজ শিল্পায়নের অগ্রগতির প্রতিফলন।
বক্তব্যের শেষে তিনি বিশ্বনেতাদের মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে মানবতার স্বার্থে জলবায়ু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কপ-৩১-এর মাধ্যমে United Nations Framework Convention on Climate Change এবং Paris Agreement-এর লক্ষ্য ও চেতনাকে পুনরায় দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।





