ফ্যাটি লিভার: বিপদের আগে সতর্কতার বার্তা ডা. এস এ মল্লিকের

ফ্যাটি লিভার রোগ নয়, ক্লিনিক্যাল সিচুয়েশন — ইনসুলিন রেজিস্টেন্সই প্রধান কারণ

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার
১৪ নভেম্বর ২০২৫
নিউজ চ্যানেল বিডি

ফ্যাটি লিভারকে সাধারণত অনেকে তেল–চর্বি বেশি খাওয়ার কারণে হওয়া রোগ মনে করেন। কিন্তু ভারতীয় ফিজিশিয়ান ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. এস এ মল্লিক জানালেন, ফ্যাটি লিভার আসলে কোনো রোগ নয়; এটি একটি ক্লিনিক্যাল সিচুয়েশন, যেখানে লিভারের মোট ওজনের ৫% বা তার বেশি ফ্যাট জমে যায়। এই ফ্যাট জমার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ইনসুলিন রেজিস্টেন্স, অর্থাৎ শরীরে ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ না করা।

ডা. মল্লিক বলেন, ফ্যাটি লিভার শুধু অ্যালকোহল খেলেই হয় না। দুই ধরনের ফ্যাটি লিভার রয়েছে—
১. অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ
২. নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD)
বিশ্বজুড়ে NAFLD–র সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।

তিনি জানান, লিভারে ফ্যাট জমলে প্রথমে লিভারের সেলগুলোতে ইনফ্লেমেশন হয়। পরে স্টিলেট সেল সক্রিয় হয়ে ফাইব্রোসিস, এবং পরবর্তী ধাপে সিরোসিস হতে পারে। সিরোসিস হলে লিভার শক্ত হয়ে যায়, এবং শেষ পর্যন্ত লিভার ফেলিয়ার বা এমনকি লিভার ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

লক্ষণ না থাকলেও ফ্যাটি লিভার থাকতে পারে

ডা. মল্লিকের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফ্যাটি লিভারের কোনো উপসর্গ থাকে না। তবে কিছু ক্ষেত্রে—

ডান পাশে হালকা ব্যথা

পেট ফোলা বা গ্যাস

হজমের সমস্যা

অস্বাভাবিক ক্লান্তি

হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি

স্কিনে ইচিং

ব্লাড ইনসুলিন বেশি

স্কিন ট্যাগস বা একানথোসিস নিগ্রিক্যান্স
এসব দেখা দিলে ফ্যাটি লিভারের সম্ভাবনা থাকে।

অ্যাডভান্স স্টেজে জন্ডিস, পা ফোলা বা পেটে পানি জমাও হতে পারে।

কে বেশি ঝুঁকিতে?

যাদের ওজন বেশি

পেটে মেদ বা সেন্ট্রাল ওবেসিটি

প্রিডায়াবেটিস/ডায়াবেটিস

উচ্চ কোলেস্টেরল

যারা খুব কম হাঁটেন এবং বেশি বসে থাকেন

অ্যালকোহল সেবনকারী

ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধ ও রিভার্সের উপায়

ডা. মল্লিকের পরামর্শ—
✔ ওজন কমানো
✔ প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটা–ব্যায়াম
✔ শাকসবজি–ফলমূল–ডায়েটারি ফাইবার বাড়ানো
✔ চর্বি, ঘি, মাখন, পিজ্জা–বার্গার–ফাস্টফুড কমানো
✔ রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট কমানো
✔ মাছ, লিন মিট, ডিম—পরিমিত খাওয়া
✔ অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা
✔ ডায়াবেটিস, প্রিডায়াবেটিস বা থাইরয়েড সমস্যার চিকিৎসা নেওয়া
✔ নিয়মিত আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও লিভার ফাংশন টেস্ট করা

টেক–হোম মেসেজ

ফ্যাটি লিভার প্রাথমিক অবস্থায় সম্পূর্ণ রিভার্সেবল।
জীবনযাপনে পরিবর্তন আনলে এবং নিয়মিত চেকআপ করলে সিরোসিস বা লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।