বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে মাদকবিরোধী সহযোগিতা চুক্তি

মাদক পাচার ও অর্থপাচার রোধে তথ্য ও গোয়েন্দা সহায়তা বাড়াবে দুই দেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ৯ মে ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সরকারের মধ্যে মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার এবং অপব্যবহার রোধে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেইজে জানানো হয়, শুক্রবার ঢাকার InterContinental Dhaka-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Salahuddin Ahmed এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Syed Mohsin Raza Naqvi নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় মাদক পাচার ও মাদক-সংশ্লিষ্ট অর্থ পাচার রোধে উভয় দেশ প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান এবং কারিগরি সহায়তা দেবে। এছাড়া মাদক অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তি, পাচারকারী চক্র এবং পাচারের নতুন কৌশল ও রুট সম্পর্কে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে।

চুক্তির আওতায় মাদক পাচারকারী ব্যক্তি ও সংগঠন (ডিটিওএস) এবং মাদক লুকানোর নতুন পদ্ধতি সম্পর্কেও নিয়মিত তথ্য বিনিময় করা হবে। মাদক পাচার প্রতিরোধে উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থা পারস্পরিক অনুরোধের ভিত্তিতে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং ‘কন্ট্রোলড ডেলিভারি অপারেশন’-এর মতো সমন্বিত অভিযান চালাবে।

এছাড়া মাদক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, পুনঃপ্রশিক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল বিনিময়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। লুকানো মাদক শনাক্তে প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও স্নিফার ডগ ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও বিনিময় করা হবে।

নিয়মিত ও অপারেশনাল তথ্য বিনিময়ের জন্য বাংলাদেশের পক্ষে Department of Narcotics Control এবং পাকিস্তানের পক্ষে Anti Narcotics Force ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে।

আদান-প্রদান করা সব তথ্য ও নথিপত্র কঠোর গোপনীয়তার সঙ্গে সংরক্ষণ করা হবে এবং তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে প্রকাশ করা হবে না।

চুক্তিটি সইয়ের দিন থেকে ১০ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে পরে এর মেয়াদ বাড়ানো যাবে।

এই সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের নাগরিকদের জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেছে।