বাংলাদেশ-পাকিস্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

নিরাপত্তা, মানবপাচার প্রতিরোধ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ

স্টাফ রিপোর্টার | ০৮ মে, ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকা সফররত পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি আজ বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল-এ বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। উভয় মন্ত্রী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ও বিচারিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে একমত পোষণ করেন।

বৈঠকে মানবপাচার (TIP) ও অভিবাসীদের অবৈধ চোরাচালান (SOM) প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং পাচারকারী চক্র দমনে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ফৌজদারি অপরাধ তদন্তে দ্রুত তথ্য ও সাক্ষ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ক্রিমিনাল ম্যাটারস’ (MLAR) চুক্তির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ ও আর্থিক অপরাধ দমনে কার্যকর প্রত্যর্পণ ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা করেন দুই মন্ত্রী।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধিতে আধুনিক পুলিশিং ও অপরাধ তদন্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়। বিশেষ করে সাইবার অপরাধ ও সংগঠিত অপরাধ দমনে নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের ওপর জোর দেন উভয় পক্ষ।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সমর্থন বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়। এ বিষয়ে মিয়ানমার-এর সঙ্গে গঠনমূলক আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে পাকিস্তান ভূমিকা রাখতে পারে বলেও আলোচনা হয়।

সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার, চোরাচালান ও দলিল জালিয়াতি প্রতিরোধে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে একটি খসড়া চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। এছাড়া তিন পাকিস্তানি বন্দির মুক্তি সংক্রান্ত নথির বর্তমান অবস্থাও আলোচনায় উঠে আসে।

বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উভয় পক্ষ ভবিষ্যতেও এ ধরনের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।