আজাদ রুহুল আমিন বিশেষ প্রতিনিধি
বাগেরহাট, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫:
২০১৩ সালে ২.৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত বাগেরহাট ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি (আইএমটি) স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে। বেকারত্ব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি বিদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা তৈরির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অনন্য স্বাক্ষর রেখে চলেছে।
বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের চিতলি বৈটপুর এলাকায় দড়াটানা সেতুর অপরপ্রান্তে প্রতিষ্ঠিত এ ইনস্টিটিউট আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে ২০১৩ সালে। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি সুদক্ষ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মানবসম্পদ তৈরি করছে।
শিক্ষাক্রম ও আবাসিক সুবিধা
ইনস্টিটিউটে চার বছর মেয়াদি মেরিন টেকনোলজি ও শিপবিল্ডিং টেকনোলজি ডিপ্লোমা কোর্স চালু রয়েছে। এছাড়া রয়েছে ৬ মাস মেয়াদি জাপানি ভাষা শিক্ষা এবং ৪ মাস মেয়াদি শর্ট কোর্স যেমন— অ্যাডভান্সড ওয়েলডিং, ইলেক্ট্রিক্যাল ইনস্টলেশন ও মেইনটেইন্যান্স, মেশিন শপ প্র্যাকটিস, গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং কেয়ার গিভিং।
শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত দুটি চারতলা ভবনে রয়েছে ১৫০ শয্যার ছাত্রাবাস ও ১৬০ শয্যার ছাত্রী নিবাস।
শিক্ষার্থী ও ভর্তি প্রক্রিয়া
বর্তমানে এখানে ২৫০ জন ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণার্থী পড়াশোনা করছে, যাদের মধ্যে ২৪৯ জন পুরুষ এবং ১ জন নারী। এছাড়া ৪৮ জন শিক্ষার্থী জাপানি ভাষা কোর্সে এবং ৭৫ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন শর্ট কোর্সে অংশ নিচ্ছে।
ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তির জন্য কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয়। শর্ট কোর্সের জন্যও বাছাই পরীক্ষা নেওয়া হয়। শুধুমাত্র বাগেরহাট নয়, দেশের ৬৪ জেলার শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছে।
শিক্ষক নিয়োগ ও পরিচালনা
শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হয় পিএসসি কর্তৃক নন-ক্যাডার পদে, প্রজেক্ট, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অভিবাসন তহবিলের মাধ্যমে। বর্তমানে অধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন মো. হাবিবুল্লাহ।
তিনি জানান,
“দেশে-বিদেশে চাকরির বাজার ও বেকারত্ব দূরীকরণে প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অপরিসীম। আমাদের শিক্ষার্থীরা ডিপ্লোমা ও শর্ট কোর্স শেষে দেশে-বিদেশে ভালো চাকরির সুযোগ পাচ্ছে।”
কর্মসংস্থানের সুযোগ
অধ্যক্ষ মো. জিয়াউল হক জানান, শিপবিল্ডিং ও মেরিন টেকনোলজি ডিপ্লোমা উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা দেশে সরকারি ও বেসরকারি পাওয়ার প্লান্ট, শিপইয়ার্ড, ডকইয়ার্ড, ইনল্যান্ড শিপসহ বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় চাকরি পাচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশে— জাপান, সিঙ্গাপুর, চীন ও ইরাকসহ বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।





