বিমানবন্দরের কার্গো শেডে আগুন নাশকতা নয়—তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা

নিরাপত্তাহীনতায় সাত বছরে সাত আগুন, বৈদ্যুতিক ত্রুটিকেই দায়ী করা হয়েছে

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো শেডে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি আজ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—আগুনটি নাশকতা নয়, বরং বৈদ্যুতিক আর্ক ও শর্ট সার্কিটের কারণে ঘটেছে।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার হাতে তুলে দেন এবং পরে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে প্রতিবেদন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কুরিয়ার শেডের ভেতরে বিভিন্ন সংস্থার জন্য ৪৮টি ছোট লোহার খাঁচার অফিস স্থাপন করা হলেও সেখানে ফায়ার অ্যালার্ম, স্মোক ডিটেক্টর, স্প্রিঙ্কলার, হাইড্রান্ট—কোনো ধরনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। ফলে আগুন লাগার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ রয়েছে যে, শেডে কাগজ-লেপে মোড়ানো কাপড়ের রোল, রাসায়নিক পদার্থ, কম্প্রেসড পারফিউম ও বডি স্প্রে বোতল, ইলেকট্রনিক্স, ব্যাটারি, ঔষধি কাঁচামালসহ বহু দাহ্য পণ্য অগোছালোভাবে জমা ছিল। এসব সামগ্রীর সঠিক সংরক্ষণব্যবস্থা না থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি সবসময়ই বিরাজ করছিল।
তদন্ত কমিটি ৯৭ জন সাক্ষীর মৌখিক ও লিখিত সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি তুরস্কের বিশেষজ্ঞ, বুয়েট, সিআইডির ফরেনসিক টিম এবং অগ্নি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
প্রেস সচিব জানান, তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে যে ২০১৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ওই স্থানে মোট সাতটি বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, যার অধিকাংশই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি। তবু সিভিল এভিয়েশন অথরিটির (সিএএবি) কাছে আগুন প্রতিরোধ বা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার পর্যাপ্ত সক্ষমতা নেই।
তদন্ত কমিটির প্রধান সুপারিশসমূহঃ
বিমানবন্দর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার জন্য স্বতন্ত্র বিমানবন্দর পরিচালনা কর্তৃপক্ষ গঠন করা।
সিএএবি কেবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করবে।
প্রধান স্থাপনাগুলোর আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশ বিমানের ভূমিকা শুধু ফ্লাইট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ রাখা।
গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিংসহ অন্যান্য কাজের জন্য দক্ষ অপারেটর নিয়োগ করা।
বিমান সংস্থার জন্য বিশেষ শ্রেণির ফায়ার স্টেশন দ্রুত স্থাপন।
বিপজ্জনক রাসায়নিক ও পণ্যসম্ভারের গুদাম নিরাপত্তা মান অনুযায়ী স্থানান্তর করা।
নিলামযোগ্য পণ্যের জন্য পৃথক কাস্টমস গুদাম স্থাপন।
এপ্রোন এলাকায় কোনো ধরনের পণ্য সংরক্ষণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।
উল্লেখ্য, গত ১৮ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো শেডে ভয়াবহ আগুন লাগে। আজ জমা দেওয়া প্রতিবেদনের সব তথ্য ও সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার নজরে আনা হয়েছে।