বীর চট্টলায় মাদ্রাসার মাহফিলে ড. শফিকুর রহমানের বক্তব্য — “আমরা জনগণের অধিকার জনগণের হাতেই ফিরিয়ে দিতে চাই”

দুর্নীতি, শিক্ষা ব্যবস্থা, নির্বাচন ও জাতীয় নেতৃত্ব নিয়ে মুখ খোলেন জামাতে ইসলামের নায়েবে আমির

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার, তারিখ, নিউজ চ্যানেল বিডি।

জামাতে ইসলামের নায়েবে আমির ড. শফিকুর রহমান আজ চট্টগ্রামের একটি মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “আমি আল্লাহ তাআালার শুকরিয়া আদায় করি যে বীর চট্টলায় আসার তৌফিক আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন। এই অঞ্চল ইতিহাস ও বীরত্বের ধারক—মজলুমদের পক্ষে আলোর পথ দেখিয়েছে।”
তিনি উল্লেখ করেন যে, চট্টগ্রামকে ইসলামের “গেটওয়ে” বলা হয় এবং মুক্তিযুদ্ধসহ নানা ঐতিহাসিক মুহূর্তে এ অঞ্চলের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা ৪৭ পার হয়েছি, ৫২ পার হয়েছি, ৭১ পার হয়েছি—এখন ২৪-এর কূলে। সুযোগ বারবার এসেছে, কিন্তু এর সঠিক ব্যবহার হয়নি।”
দুর্নীতি ও উন্নয়ন
ড. শফিকুর রহমান দেশের সম্পদের সঠিক ব্যবহার না হওয়ায় জনগণ প্রকৃত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তার ভাষায়,
“অল্প কিছু লোক দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করেছে, কিন্তু সাধারণ জনগণ উন্নয়ন পায়নি। শিক্ষা, শিল্প, কৃষি, মৎস্য—সবখানেই আমরা পিছিয়ে আছি, কারণ মিশনারি আন্তরিক, দেশপ্রেমিক, সৎ নেতৃত্বের অভাব।”
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, সৎ নেতৃত্ব পেলে দেশকে বদলে দেওয়া সম্ভব এবং সেই লড়াইয়ে তিনি জনগণের জন্য নিবেদিত থাকতে চান।
শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি
তিনি দেশের ভেঙে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থাকে “টপ প্রায়রিটি” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন,
“এই শিক্ষা হতে হবে নৈতিক, আধুনিক এবং মানবিক। শিক্ষিত মানুষ যেন মানুষের দুশমন না হয়ে মানুষের বন্ধু হয়—এমন সমাজ গড়তে চাই।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে অবস্থান
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নাই—কিন্তু এই ফিল্ড আমাদেরই তৈরি করতে হবে। নির্বাচন না হলে দেশে সংকট দেখা দেবে, আমরা কোনো সংকট সৃষ্টি হতে দেব না।”
তিনি আরও জানান, তাদের দল প্রচলিত কোনো জোটে যাচ্ছে না, তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা হতে পারে।
জনগণের বিজয়কে অগ্রাধিকার
ড. শফিকুর রহমান বলেন,
“আমি কোনো দলের বিজয় চাই না, আমি জনগণের বিজয় চাই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ হবে, এবং আল্লাহর উপর ভরসা রেখে আমরা মাথা নত করব শুধু রাব্বুল আলামীনের সামনে।”
মিডিয়ার ভূমিকা
তিনি দেশের সাংবাদিক সমাজকে “জাতির দর্পণ” উল্লেখ করে বলেন,
“সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা বলতে ভয় পাবেন না। আপনাদের কণ্ঠ রুদ্ধ করতে কেউ পারবে না—আমরা আপনাদের পাশে থাকব।”
শেষে তিনি নির্বাচন–সংকট, জোট রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে সংক্ষেপে মতামত দেন এবং বলেন,
“আমরা জনগণের অধিকার জনগণের হাতেই তুলে দিতে চাই। আল্লাহ হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।”