স্টাফ রিপোর্টার | ৪ এপ্রিল ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে United States–Israel ও Iran সংঘাতের প্রেক্ষাপটেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
Hormuz Strait-এর সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে ইতোমধ্যে বিকল্প রুট ও উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি করা হচ্ছে। ফলে পর্যাপ্ত মজুত, বহুমুখী আমদানি উৎস এবং সরকারের কঠোর নজরদারির কারণে জ্বালানি খাতে কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারাদেশে মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৮ টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক পরিমাণ ডিজেল—১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ টন, যা মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশ। এছাড়া অকটেন, পেট্রোল ও জেট ফুয়েলও পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে।
Bangladesh Shipping Corporation (বিএসসি) জানিয়েছে, আগামী ২০ এপ্রিল Yanbu Commercial Port, Saudi Arabia থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল জাহাজে লোড করা হবে। পাশাপাশি ‘এমটি নরডিক পলুকস’ জাহাজে থাকা আরও ১ লাখ টন তেল বর্তমানে Hormuz Strait-এ অবস্থান করছে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দুই জাহাজে মোট ২ লাখ টন ক্রুড অয়েল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে India থেকেও পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি জোরদার করা হয়েছে। আসামের Numaligarh Refinery থেকে বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে ১ এপ্রিল ৭ হাজার টন ডিজেল আনা হয়েছে। এর আগে মার্চে দুই দফায় ১০ হাজার টনসহ মোট ১৭ হাজার টন ডিজেল আমদানি করা হয়।
এছাড়া Malaysia থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে ‘পিভিটি সোলানা’ জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। Bangladesh Petroleum Corporation (বিপিসি)-এর তত্ত্বাবধানে এ আমদানি সম্পন্ন হয়। বিপিসি জানিয়েছে, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে Singapore থেকে আরও দুটি জাহাজ আসবে—‘ইউয়ান জিং হে’ ৩০ হাজার টন ডিজেল এবং ‘সেন্ট্রাল স্টার’ ২৫ হাজার টন অকটেন বহন করবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে।
অবৈধ মজুত ও কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত, ভিজিলেন্স টিম গঠন, ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন এবং তথ্যদাতাদের জন্য পুরস্কার ঘোষণাসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, গত ৩ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত অভিযানে অবৈধভাবে মজুত করা ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৮ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে ডিজেলের পরিমাণই বেশি।
ভোক্তাদের ওপর চাপ কমাতে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। গত ৩১ মার্চ জারি করা প্রজ্ঞাপনে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা এবং পেট্রোল ১১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (মুখপাত্র) মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াভিত্তিক উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নতুন নতুন উৎস থেকেও তেল আমদানি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের প্রায় সব দেশই এখন বিকল্প উৎস খুঁজছে, আমরাও সেই প্রক্রিয়ায় আছি। যেখানে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত দামে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখান থেকেই আমদানি করা হচ্ছে।’
জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশে বর্তমানে জ্বালানির কোনো সংকট নেই। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি ক্রয় করুন এবং সবাইকে সাশ্রয়ী ব্যবহারে সচেতন হতে হবে।’





