স্টাফ রিপোর্টার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদর লেখা Demise of Democracy (গণতন্ত্রের পতন) গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব্যারিস্টার মওদুদকে প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন—“আমি কোনো দার্শনিক নই, লেখকও নই, কিন্তু দীর্ঘদিন রাজনীতির মাঠে থাকার সুবাদে আমি এই বিরল প্রতিভার মানুষের সহচর্য পাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছি। তাঁর সঙ্গে রাজনীতি করা আমার জীবনের একটি বড় সৌভাগ্য।”
তিনি বলেন, বইটি বিস্তারিত পড়ার সুযোগ তার খুব বেশি হয়নি, তবে ব্যারিস্টার মওদুদর কাজ সম্পর্কে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতার সূত্রে তিনি অবগত। বক্তব্যে তিনি স্মরণ করেন ২০১২ সালে একসঙ্গে কারাবাসের অভিজ্ঞতা, যেখানে প্রায় ১৭ জন বিএনপি নেতার সঙ্গে ব্যারিস্টার মওদুদও ছিলেন।
ফখরুল বলেন, “জেলে ঢোকার পরই দেখি তিনি দ্রুত ডিভিশন সেলের দিকে চলে যাচ্ছেন। জানতে পারি—রুম নম্বর ওয়ানে তিনি লেখালেখিতে মনোনিবেশ করবেন। প্রতিদিন ভোরে ফজরের সময় উঠে সারাদিন তিনি ইতিহাস নিয়ে লিখতেন। মনে হতো, তিনি যেন লেখার মধ্যেই বেঁচে আছেন।”
তিনি আরও বলেন, “রাজনীতিবিদ মওদুদকে নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু ইতিহাস লেখক মওদুদর কাজ নিয়ে সমালোচনার তেমন সুযোগ নেই। তিনি ছিলেন সত্যিকার অর্থেই একজন গণতান্ত্রিক নেতা।”
ফখরুল স্মরণ করেন স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমানের সময় রক্ষীবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হওয়া খুলনার কমিউনিস্ট নেতা শান্তি সেনের পরিবার ও কমিউনিস্ট কর্মী হানিফা বেগমকে মুক্ত করার ঘটনায় ব্যারিস্টার মওদুদর ভূমিকা। ওই সময় তিনি ছিলেন একটি উদীয়মান তরুণ আইনজীবী।
বিএনপি মহাসচিব আবেগভরে বলেন, “বর্তমান অস্থির সময়ে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল ব্যারিস্টার মওদুদর মতো নেতাকে। দুঃখ হয়—তিনি এই ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতন দেখে যেতে পারেননি, যেটি তিনি আন্তরিকভাবে দেখতে চেয়েছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, এ বইটি তরুণ প্রজন্মের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—“যেসব তরুণ আজকের এই অসাধারণ সাফল্য এনে দেশে গণতন্ত্রের বাতাস ফিরিয়ে এনেছে, তাদের জন্য এই বই অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।”
শেষে তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ছিলেন আমাদের গণতান্ত্রিক পথের প্রেরণা। তাঁর লেখাগুলো আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পথ দেখাবে।”





