মিরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ১৬, তদন্তের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার — বিএনপির শোক ও সহায়তার ঘোষণা

অবৈধ রাসায়নিক গুদাম থেকেই আগুনের সূত্রপাতের ধারণা, এখনো নিখোঁজ অনেকে

ছবি :বিএনপি মিডিয়া সেল ফেইসবুক থেকে নেয়া

Posted by:

on

ঢাকা, ১৫ অক্টোবর ২০২৫ (নিউজ চ্যানেল বিডি):
রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে একটি পোশাক কারখানা ও রাসায়নিক গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের খোঁজে ঘটনাস্থল ও আশপাশের হাসপাতালগুলোতে স্বজনদের ভিড় দেখা গেছে।

ছবি সংগৃহীত

এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হতাহতদের প্রতি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এক যৌথ বিবৃতিতে তারা নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তারা বলেন, “এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য দায়ীদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনতে হবে।”

বিএনপি এ দুর্ঘটনায় নিহত প্রতিটি পরিবারকে এক লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।


অবৈধ রাসায়নিক গুদাম থেকেই আগুনের সূত্রপাত

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে— পোশাক কারখানার পাশের একটি অবৈধ রাসায়নিক গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
বিস্ফোরণের পর সেখানে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে, যা প্রাণহানির প্রধান কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, প্রায় ২৮ ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তবে এখনো ধোঁয়া বের হচ্ছে, এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে প্রবেশে ঝুঁকি রয়ে গেছে।


প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশ ও সরকারি প্রতিক্রিয়া

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, অধ্যাপক ইউনূস ইতালি সফরকালে ঘটনাটি সম্পর্কে অবহিত হন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তদন্তের নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, “আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে আছি। রাসায়নিক গুদামগুলো যেন আর কোনো আবাসিক এলাকায় স্থাপন না হয়, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

দুই দিনের রোম সফর শেষে অধ্যাপক ইউনূস আজ সকালে দেশে ফেরেন।


ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের পদক্ষেপ

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল গতরাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন,
“অবৈধ রাসায়নিক গুদাম স্থাপনের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস একসঙ্গে কাজ করবে।”

এদিকে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচ সদস্যের রাসায়নিক বিশেষজ্ঞ দল আজ গুদামটি পরিদর্শন করেছে।
তারা প্রতিরক্ষামূলক পোশাক পরে ধোঁয়ার উৎস শনাক্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের কাজ করেন।

ঢাকা বিভাগের সহকারী পরিচালক কাজী নাজমুজ্জামান জানান, আগুন লাগার সময় গুদামটি তালাবদ্ধ ছিল। “আমাদের ধারণা— ভেতরে কেউ ছিল না। তবে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর সবকিছু জানা যাবে,” বলেন তিনি।