মির্জা আব্বাসের অভিযোগ: “১৭ বছর রাজপথ–জেল–কোর্টে কাটিয়েছি, সুযোগ পেলে সরকার আমাকে ১০০০ বছর সাজা দিত”

ঢাকা-৮ এর জনসভায় ধর্মীয় অপব্যবহার, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে কঠোর সমালোচনা

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার, ২০২৫-১২-০৭, নিউজ চ্যানেল বিডি।
ঢাকা–৮ আসনের নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, গত ১৭ বছর রাজপথ, জেল এবং কোর্টে দৌড়াদৌড়ির মধ্যেই কাটাতে হয়েছে, যার কারণে তিনি সংসদীয় অভিভাবক হিসেবে এলাকার পাশে দাঁড়াতে পারেননি। তার ভাষায়, “এই সরকার যদি সুযোগ পেতো তাহলে আমার বোধহয় ১০০০ বছর সাজা হতো।”
সভায় তিনি অভিযোগ করেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কিছু পক্ষ ভোটের সঙ্গে “জান্নাতের টিকিট” বাণিজ্য করছে, এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি বক্তব্যে যোগ করেন, “ফেব্রুয়ারিতে জামাতকে ভোট দিলে নতুন মুসলমান হবেন—এমন কথাও বলা হচ্ছে। আবার বলা হচ্ছে, তাদেরকে ভোট না দিলে জাহান্নামে যাবেন।”
মির্জা আব্বাস আরও বলেন, “ওরা বলছে, যদি আমরা হেরে যাই তাহলে কোরআন হেরে যাবে। ১৪০০ বছর ধরে অসংখ্য বিধর্মী চেষ্টার পরেও কোরআন কেউ ধ্বংস করতে পারেনি—এটা আল্লাহর কিতাব। কিন্তু এখন ভোটকে কোরআনের জয়ের সঙ্গে মিলিয়ে বলা হচ্ছে, এটা কত বড় অপব্যবহার!”
তিনি জামায়াতে ইসলামের পরিচয় ও রাজনীতির চর্চা নিয়েও ব্যঙ্গ করে বলেন, তাদের দলে বৃষ্ণ কুমার নন্দীর মতো ব্যক্তির অবস্থান তার বোধগম্য নয়। তিনি উল্লেখ করেন, সংগঠনের পতাকা থেকে ধর্মীয় শব্দ “আকিমুদ্দিন” বাদ দেওয়া হয়েছে পশ্চিমা বিশ্বকে খুশি করার জন্য—যা তার মতে “গুরুতর ভুল”।
বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মির্জা আব্বাস আবেগাপ্লুত হন। তিনি বলেন, “আমার নেত্রী এখন অত্যন্ত কঠিন অবস্থায় আছেন, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। যদি সুস্থ থাকতেন, তাহলে হয়তো আমার নির্বাচনী মিছিলে এসে পাশে দাঁড়াতেন।” তিনি স্মরণ করেন, ১৯৯১ সালে কমলাপুরে এক বিশাল জনসভার মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া প্রথম তাকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন।
এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাস্তানি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “আমার দলে কেউ এমন কাজে জড়িত থাকলে সাবধান হয়ে যান। অভিযোগ এলে কাউকে ছাড় দেব না।”