স্টাফ রিপোর্টার, ২৩ জানুয়ারি ২০২6, নিউজ চ্যানেল বিডি।
একজন মুসলমানকে কাফের বা কুফরি বলা ইসলামে জায়েজ নয় বলে মন্তব্য করেছেন এক রাজনৈতিক বক্তা। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ, রাসূল (সা.) এবং আখেরাতে বিশ্বাস করেন, পরকালে বিশ্বাসী এমন কাউকে মুসলমান হয়েও কাফের বলা বড় অপরাধ। হাদিসে এ বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং হাদিসে এসেছে কেউ কাউকে কাফের বললে তা উল্টো বলার ব্যক্তির দিকেই ফিরে আসতে পারে।
তিনি বলেন, আমরা দুঃখের সঙ্গে বলছি, আমরা ধারণা করেছিলাম তিনি বিদেশে লন্ডনে পড়াশোনা করেছেন, রাজনৈতিক পরিপক্বতা আছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে তিনি “মুফতি হয়ে গেছেন” এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের জায়গায় দাঁড়িয়ে কারা মুশরিক, কারা কাফের সে বিষয়ে ফতোয়া দিচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, একজন রাজনৈতিক নেতার এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া সৌজন্যতা, শিষ্টাচার ও রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার সঙ্গে যায় না।
বক্তা আরও বলেন, ইসলাম সম্পর্কে যারা প্রকৃতপক্ষে পড়াশোনা করেছেন, যারা আলেম, ফকিহ, পণ্ডিত বা মুফতি তারা মুসলমানদের ভুল-ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, কিন্তু রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে কাউকে কাফের ঘোষণা করার অধিকার কারও নেই। এ কারণে তিনি ওই বক্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
তিনি বলেন, কেউ নামাজ না পড়লেও, রোজা না রাখলেও, আমলে যত ত্রুটি থাকুক, কিন্তু যদি আল্লাহ, রাসূল এবং পরকালকে বিশ্বাস করে এবং তৌহিদ মানে, তাকে কাফের বলা যায় না। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বড় ধরনের অপরাধ করেছেন এবং তার উচিত আত্মসমালোচনা করা।
আরও এক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি চাইলে এই প্রশ্নের জবাব নিজ পরিবারের কাছেই জানতে পারতেন, কেন একসময় জামায়াতে ইসলামীর কাছে যাওয়া হয়েছিল, যাদেরকে তিনি ‘৭১ ইস্যুতে অপরাধী’ মনে করেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান জীবিত অবস্থায় অনেক বিষয়ের মীমাংসা করে গেছেন এবং “ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট” নীতিতে এগিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, সে সময় ত্রিদেশীয় চুক্তি, শিমলা চুক্তি ও সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার মাধ্যমে বিভেদ-অনৈক্য কমিয়ে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছিল।





