রাকসু নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় শিবির–সমর্থিত প্যানেলের

২৩টির মধ্যে ২০ পদে জয় ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’-এর, তিন দশক পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন

ছবি: বাসস থেকে সংগ্রহীত

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার | নিউজ চ্যানেল বিডি
রাজশাহী, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট প্যানেল। ২৩টি পদের মধ্যে ২০টিতেই জয়ী হয়েছেন তারা।

শুধু তিনটি পদ—সাধারণ সম্পাদক (জিএস), ক্রীড়া সম্পাদক এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক—তাদের হাতছাড়া হয়েছে। এর মধ্যে একটিতে জিতেছেন ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শিবির–সমর্থিত প্যানেলগুলো অধিকাংশ পদে জয়ী হয়। রাকসুতেও সেই ধারাবাহিকতা দেখা গেল।


ভিপি-জিএস-এজিএস: শীর্ষ পদে মিশ্র ফলাফল

নির্বাচনে শিবির–সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’-এর ভিপি (সভাপতি) প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান (জাহিদ) ও জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেলের সালাউদ্দিন আম্মার জয়ী হন।

সাড়ে তিন দশক পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৭২ বছরে ১৭তম রাকসু নির্বাচন। ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো ভোটগ্রহণ হয়।

শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন।

ভিপি পদে মোস্তাকুর রহমান (জাহিদ) পেয়েছেন ১২,৬৮৭ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল–সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের শেখ নূর উদ্দিন (আবির) পেয়েছেন ৩,৩৯৭ ভোট।

জিএস পদে সালাউদ্দিন আম্মার বড় ব্যবধানে বিজয়ী হন। তিনি পেয়েছেন ১১,৪৯৭ ভোট, আর শিবির–সমর্থিত জিএস প্রার্থী ফজলে রাব্বি মো. ফাহিম রেজা পেয়েছেন ৫,৭২৭ ভোট।

এজিএস পদে জয় পেয়েছেন শিবির–সমর্থিত প্রার্থী এস এম সালমান সাব্বির, তিনি পেয়েছেন ৬,৯৭৫ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল–সমর্থিত জাহিন বিশ্বাস এষা পেয়েছেন ৫,৯৫১ ভোট।


অন্যান্য পদে শিবির–সমর্থিত প্রার্থীদের দাপট

ক্রীড়া সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন জাতীয় নারী ফুটবলার ও ছাত্রদল–সমর্থিত প্রার্থী নার্গিস খাতুন—ছাত্রদল প্যানেলের একমাত্র বিজয়ী প্রার্থী তিনি।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী তোফায়েল আহমেদ তোফা।

অন্য পদগুলোতে জয় পেয়েছেন শিবির–সমর্থিত জোটের প্রার্থীরা।
সাংস্কৃতিক সম্পাদক জাহিদ হাসান জ্বোহা, সহকারী সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক আবু সাঈদ নাঈম, নারী বিষয়ক সম্পাদক সাঈদা হাফসা, সহকারী নারী বিষয়ক সম্পাদক সামিয়া জান্নাত।
তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব, সহকারী সিফাত আবু সালেহ।
মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম, সহকারী আসাদুল্লাহ হিল গালিব ও মুজাহিদুল ইসলাম সায়েম নির্বাচিত হয়েছেন।

বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর, সহকারী নয়ন মুরসালিন, পরিবেশ ও সমাজসেবা সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাসুদ, সহকারী মাসুমা ইসলাম মোমো জয়ী হয়েছেন।
কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন দ্বীপ, সুজন চন্দ্র, ইমজিয়াউল আলি ও খালিদ হাসান।


ভোট ও উপস্থিতি

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি ভবনের ১৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়।
মোট ভোটার ছিলেন ২৮,৯০১ জন, এর মধ্যে ছাত্রী ১১,৩০৫ জন এবং ছাত্র ১৭,৫৯৬ জন।
ভোট পড়েছে ৬৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভোট গণনা শুরু হয় এবং সাড়ে ১০টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।


প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মন্তব্য

অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম বলেন,

“কঠোর ও দৃঢ় সিদ্ধান্তের কারণেই এই নির্বাচন সম্ভব হয়েছে। প্রশাসন যেভাবে সহযোগিতা করেছে, তা প্রশংসনীয়। উপাচার্য বলেছিলেন, নির্বাচন হতেই হবে—হতেই হবে।”

তিনি যোগ করেন,

“৩৫ বছর পর এই বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন ও ফলাফলকে আমি আমার প্রিয় শিক্ষার্থীদের উৎসর্গ করছি।”

এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব, সহ–উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন খান ও ফরিদ উদ্দিন খান, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল আলীম এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।