স্টাফ রিপোর্টার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর জানাজার নামাজে অংশ নিতে লক্ষ লক্ষ তৌহিদি জনতা উপস্থিত হন। জানাজার নামাজে ইমামতি করার আগে শহীদ ওসমান হাদীর বড় ভাই উপস্থিত মুসল্লি ও তৌহিদি জনতার উদ্দেশে এক আবেগঘন বক্তব্য দেন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, উসমান হাদী বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন এবং এ দেশের ১৮–২০ কোটি মানুষের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে গেছেন—কীভাবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হয়।
তিনি জানান, শহীদ ওসমান হাদীর একটি সন্তান রয়েছে, যার বয়স মাত্র আট মাস। সন্তানের জন্মের সময় উসমান হাদী নিজেই তার কাছে বিপ্লবী চেতনা ও সাহসিকতার প্রতীক একটি নাম রাখার অনুরোধ করেছিলেন। পরে শিশুটির নাম রাখা হয় ‘ফিরনাস’। আজ সেই শিশুর দিকে তাকানোও পরিবারের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে বলে জানান তিনি।
পরিবারের শোকের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার মা বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন, ভাই-বোনেরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং ছয় ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট উসমান হাদীর লাশ কাঁধে বহন করতে হয়েছে— যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দিবালোকে রাজধানী ঢাকায় জুমার নামাজের পর প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এখনো দোষীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকাটা জাতির জন্য লজ্জাজনক। সাত থেকে আট দিন পেরিয়ে গেলেও খুনিরা কীভাবে পালিয়ে গেল—সে প্রশ্ন জাতির সামনে রেখে দেন তিনি। একমাত্র দাবি হিসেবে তিনি বলেন, শহীদ উসমান হাদীর হত্যার বিচার প্রকাশ্যে বাংলার মাটিতে দেখতে চান।
তিনি আরও বলেন, উসমান হাদী নিজেই শহীদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন। আল্লাহ তায়ালা হয়তো সেই শহীদির মর্যাদা তাকে দান করেছেন। তবে এই আত্মত্যাগের ঋণ কোনোদিন শোধ করা সম্ভব নয়।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করে বলেন, শহীদ ওসমান হাদীর স্ত্রী, সন্তান ও শোকাহত পরিবারের জন্য সবাই যেন দোয়া করেন। একই সঙ্গে তিনি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন শহীদ ওসমান হাদীকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করা হয় এবং যারা জীবিত আছেন তারা যেন ঈমানের সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার তৌফিক লাভ করেন।





