স্টাফ রিপোর্টার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর এবং সবার অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে সম্পন্ন করতে সামরিক বাহিনী, পুলিশ এবং সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন।
আজ মিরপুর সেনানিবাসে সামরিক বাহিনী কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) কোর্স–২০২৫-এর সনদ ও গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
নির্বাচনকে ‘অভ্যুত্থান থেকে গণতন্ত্রে ফেরার যাত্রা’ হিসেবে উল্লেখ
প্রধান উপদেষ্টা বলেন,
“এখন নির্বাচনের সময়। আমরা প্রস্তুত। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটের দিন ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর করতে সামরিক বাহিনী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তা প্রয়োজন।”
তিনি নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে অভ্যুত্থানোত্তর “গণতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার যাত্রা” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন—
“এটি হবে মানুষের আশা–আকাঙ্ক্ষা প্রকাশের সময়।”
গ্র্যাজুয়েটদের প্রশংসা ও জাতির অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান
ডিএসসিএসসি কোর্স–২০২৫-এর গ্র্যাজুয়েটদের অভিনন্দন জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন—
“আপনারা যে জ্ঞান ও সংকল্প অর্জন করেছেন, তা দেশের অগ্রগতিতে কাজে লাগান।”
তিনি ডিএসসিএসসিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি শীর্ষ সামরিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে বলেন—
“বাংলাদেশ আজ এক বৃহৎ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আপনারা এমন এক সময়ে এখানে ছিলেন, যা দেশের জন্য ঐতিহাসিক।”
অভ্যুত্থান ও সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা
গত বছরের ছাত্র–জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থান উল্লেখ করে তিনি বলেন—
“এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অতীত শাসন ব্যবস্থার অবসান হয়েছে, মানুষের মনে নতুন আশা তৈরি হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন—
“সশস্ত্র বাহিনী জনগণের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করেছে। দেশের সংকট দ্রুত কাটিয়ে উঠতে এই ঐক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”
সংস্কার ও ন্যায়বিচারের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান
অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার অঙ্গীকারের বিষয়ে তিনি বলেন—
“যদি আমরা অতীতে ফিরে যেতাম, সব ত্যাগ বৃথা যেত। আমাদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়তে সংস্কারগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।”
অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন—
“যারা ভয়াবহ অপরাধ করেছে, তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই হবে।”
আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রতিফলন
ডিএসসিএসসি কোর্সে অংশ নেওয়া বিদেশি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন—
“আপনাদের উপস্থিতি বাংলাদেশের শক্তিশালী বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা সম্পর্কের প্রতিফলন। আশা করি সম্পর্ক ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
কোর্স–২০২৫: অংশগ্রহণকারীদের পরিসংখ্যান
আইএসপিআর জানায়, এ বছর কোর্সে মোট ৩১১ জন প্রশিক্ষণার্থী গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে—
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী: ১৭০ জন
নৌবাহিনী: ৪৫ জন
বিমান বাহিনী: ৩৬ জন
বাংলাদেশ পুলিশ: ৩ জন
বিদেশি কর্মকর্তা: ৫৮ জন (২৫ দেশের)
এ বছর ১৪ জন নারী কর্মকর্তা গ্র্যাজুয়েশন অর্জন করেন, যা প্রতিষ্ঠানের নারীর ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করে।





