শায়েখ আহমাদুল্লাহর দূরদর্শী সিদ্ধান্ত ও যাকাত ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন ভাবনা

ধর্ম উপদেষ্টা পদ থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়াকে অনেকেই শায়েখ আহমাদুল্লাহর দূরদর্শী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার, ৮ মার্চ ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।

ধর্ম উপদেষ্টা হিসেবে প্রস্তাবিত তালিকা থেকে সম্মানের সঙ্গে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়াকে অনেকেই শায়েখ আহমাদুল্লাহর দূরদর্শী সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের অংশ হলে তিনি হয়তো আগের মতো সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা একইভাবে ধরে রাখতে পারতেন না।

সাধারণত ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত হলে জনমানুষের দৃষ্টিতে অনেক সময় ব্যক্তির গ্রহণযোগ্যতা কমতে থাকে। শায়েখ আহমাদুল্লাহ সেই বাস্তবতা উপলব্ধি করেই নিজেকে সরকারি কাঠামোর বাইরে রেখে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে মনোযোগী থাকার পথ বেছে নিয়েছেন বলে অনেকেই মনে করেন।

গত কয়েক বছরে তিনি আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নীরবে দারিদ্র্য বিমোচন, মানবিক সহায়তা এবং সমাজকল্যাণমূলক নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে বহু অসহায় মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। পাশাপাশি অসংখ্য নারীকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

তবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হওয়ায় মূলধারার অনেক গণমাধ্যমে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের এসব কার্যক্রম খুব বেশি আলোচনায় আসে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে আজ রাজধানীতে এতিম শিশু ও আলেম-ওলামাদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যাকাত ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। সেখানে তিনি বলেন, দেশে প্রতিবছর যে বিপুল পরিমাণ যাকাত দেওয়া হয় তা যদি পরিকল্পিতভাবে বিতরণ করা যায়, তাহলে দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

তিনি উল্লেখ করেন, হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে প্রতিটি পরিবারকে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা করে যাকাত দেওয়া হলে প্রতি বছর প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলা সম্ভব হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে দেশে চরম দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে।

ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সম্মানিত খতিব আল্লামা মুফতি আবদুল মালেক, যিনি হাদিসশাস্ত্রে আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত একজন আলেম। তার রচিত ‘আল মাদখাল ইলা উলুমিল হাদিসিশ শরিফ’সহ হাদিসশাস্ত্রের ওপর বেশ কয়েকটি গবেষণামূলক গ্রন্থ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে পাঠ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত আলেম আবদুর রাজ্জাক বিন ইউসুফসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত আলেম-ওলামা ও এতিম শিশুরা।

ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি টেবিলে গিয়ে আলেম-ওলামাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং দোয়া কামনা করেন। উপস্থিতদের মতে, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে এ ধরনের আন্তরিক আচরণ নাগরিকদের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।