স্টাফ রিপোর্টার, ৯ জুন ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার সূত্রাপুর কমিউনিটি সেন্টারে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি -এর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দুস্থদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, গত ১৭ বছর দেশের জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র একশ দিনের কিছু বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে। এত অল্প সময়ে একটি সরকারের পূর্ণ মূল্যায়ন করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে এবং বিভিন্ন খাতে দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল করা হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই বর্তমান সরকারকে এগিয়ে যেতে হচ্ছে।
সরকারকে ব্যর্থ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী কিছু দল এমনভাবে সমালোচনা করছে যেন বর্তমান সরকার দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় রয়েছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যেই এসব বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে দেশের সাধারণ মানুষ সচেতন এবং দেশের স্বার্থ সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান সংসদ ও মন্ত্রিসভার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্যই প্রথমবারের মতো দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এটিকে তিনি দুর্বলতা নয়, বরং জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শক্তি হিসেবে দেখছেন।
জনগণের কাছে জবাবদিহিতার বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলের অসমাপ্ত প্রকল্পগুলোর ব্যয় ও সময়সীমা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে জবাবদিহিতার প্রশ্নটি সামনে আনেন। এর মাধ্যমে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন বলেও তিনি জানান।
দেশবাসীর প্রতি ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার ধাপে ধাপে সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ করছে। বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং ভবিষ্যতেও জনগণের কাছেই জবাবদিহি করতে হবে। তাই জনগণের স্বার্থের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
নিজের নির্বাচনী এলাকার প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বর্তমানে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মাদক সমস্যা মহামারি আকার ধারণ করেছে। দেশি-বিদেশি নানা চক্রান্ত মোকাবিলা করেও সরকার এ সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী কিংবা মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তারা যে পরিচয়ই দেওয়ার চেষ্টা করুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক মামলায় জামিনের বিষয়টিও সংসদীয় দলের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে এবং আইনমন্ত্রীকে কঠোর আইন প্রয়োগের অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের কথা স্মরণ করে ইশরাক হোসেন বলেন, দেশের স্বার্থ ও জনগণের অধিকারের প্রশ্নে বিএনপি কোনো আপস করবে না। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় দল কাজ করে যাবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকে তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে মানুষের সমস্যার খোঁজ নেবেন এবং সেগুলোর সমাধানে কাজ করবেন। শুধু গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া নয়, বরং মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে তাদের সমস্যার সমাধান করাই তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন , , , , এবং সহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।





