সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ

ভূমিকম্পে নিহতদের প্রতি শোক, পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আশা

স্টাফ রিপোর্টার, ২১ নভেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, আজকের মহা পুনর্মিলনের আনন্দঘন দিনেও দেশ শোকাহত—কারণ আকস্মিক ভূমিকম্পে কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকে আহত হয়েছেন। তিনি নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
ভূমিকম্পে শোক, তবুও নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়
প্রধান উপদেষ্টা বলেন,
“এই আনন্দের দিনেও আমরা ব্যথিত। ভূমিকম্পে যারা ইন্তেকাল করেছেন, তাদের স্মরণে আমরা নীরবে শোকপালন করেছি। যারা আহত হয়েছেন বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারা যেন আবার নতুন করে জীবনে এগিয়ে যেতে পারেন—এই কামনা করি।”
আগামী নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর হবে—প্রত্যাশা
তিনি উল্লেখ করেন যে দেশ শিগগিরই জাতীয় নির্বাচনের পথে এগোচ্ছে, এবং এই নির্বাচনই নতুন বাংলাদেশের যাত্রাপথ তৈরি করবে। তিনি বলেন,
“এই নির্বাচন যেন সর্বাঙ্গসুন্দর, আনন্দমুখর ও উৎসবমুখর হয়—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমরা সবাই মিলে সেই পরিবেশ তৈরিতে কাজ করব।”
মুক্তিযুদ্ধ স্মরণে শ্রদ্ধা
প্রধান উপদেষ্টা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন—
মহান মুক্তিযুদ্ধের সমস্ত শহীদ,
আহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর সেনানীদের,
২০২৪ সালের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের শহীদ ও অংশগ্রহণকারীদের।
তিনি বলেন,
“তাদের আত্মত্যাগ আমাদের দেশ পুনর্গঠনের নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে।”
১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর—যৌথ অভিযানের গৌরবময় দিন
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করেন—
২১ নভেম্বর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে এক ঐতিহাসিক দিন। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী এই দিনে সম্মিলিতভাবে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে।
তিনি বলেন,
“যদি এই যৌথ অভিযান সফল না হতো, মুক্তিযোদ্ধা সেনাদের মৃত্যুদণ্ড অনিবার্য ছিল। তাদের আত্মত্যাগের কারণেই আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি।”
সশস্ত্র বাহিনীর অবদান—দেশের গর্ব
তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী শুধু স্বাধীনতার লড়াই নয়;
২০২৪ সালের ছাত্র–জনতা অভ্যুত্থান,
দুর্যোগ মোকাবিলা,
দেশ পুনর্গঠন—
সবক্ষেত্রেই দেশের মানুষের পাশে থেকেছে।
তিনি আরও বলেন,
“গণতান্ত্রিক ও নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রতি অনুগত আমাদের সশস্ত্র বাহিনী দেশের সুরক্ষা ও উন্নয়নে তাদের পেশাগত দক্ষতা ধরে রাখবে।”
সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন
প্রধান উপদেষ্টা বলেন,
ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন উপেক্ষিত থাকলেও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বাহিনীগুলোর আধুনিকায়নে ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে।
উন্নত প্রশিক্ষণ
আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন
সমরাস্ত্র সংগ্রহ ও উৎপাদন বৃদ্ধি
BNCC কার্যক্রম সম্প্রসারণ
এসব উদ্যোগ তাদের সক্ষমতাকে নতুন স্তরে নিয়ে গেছে।
জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের সাফল্য
তিনি গর্বের সঙ্গে জানান—
গত ৩৭ বছরে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষীরা ৬৩টি মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে এবং বর্তমানে ১০টি মিশনে কাজ করছে।
বাংলাদেশ বিশ্বে সবচেয়ে বড় নারী শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর একটি।
সম্প্রতি কাতার ও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে কর্মসংস্থান চুক্তি স্বাক্ষরও বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতীক।
বন্ধু রাষ্ট্রসমূহের প্রতি কৃতজ্ঞতা
প্রধান উপদেষ্টা বিভিন্ন বন্ধু দেশের অতিথিদের উপস্থিতিতে কৃতজ্ঞতা জানান এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় পাওয়া সহায়তা স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠান সমাপ্তি
অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন,
“মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আল্লাহ হাফেজ।”