স্টাফ রিপোর্টার | ৯ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
দেশের সাইবার নিরাপত্তা কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে সরকার ‘সাইবার সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি (২০২৬-২০৩০)’ প্রণয়নের কাজ করছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
মঙ্গলবার সংসদে গাজীপুর-৫ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন-এর তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা দেশের সাইবার নিরাপত্তা আরও জোরদারের লক্ষ্যে ‘সাইবার সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি (২০২৬-২০৩০)’ প্রণয়নের কাজ করছে। এর প্রাথমিক খসড়া ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।
সংসদে আরেক প্রশ্নের জবাবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন-কে মন্ত্রী জানান, জনগণের জন্য ইন্টারনেট ও মোবাইল সেবা আরও সাশ্রয়ী করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, ‘ওয়ান কান্ট্রি, ওয়ান রেট’ নীতির আওতায় দেশজুড়ে অভিন্ন ইন্টারনেট মূল্য নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন সব ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি) ও আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি)-কে ইন্টারনেটের মূল্য কমিয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাগালের মধ্যে আনার নির্দেশনা দিয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বিটিআরসি ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের নতুন ট্যারিফ নির্ধারণ করেছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী ৫ এমবিপিএস সংযোগের মাসিক মূল্য ৪০০ টাকা, ১০ এমবিপিএস ৫০০ টাকা, ২০ এমবিপিএস ৮০০ টাকা এবং ৪০ এমবিপিএস সংযোগের মূল্য ১ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু-এর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের সব এলাকায় ইতোমধ্যে ৪জি প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে এবং বাণিজ্যিকভাবে ৫জি সেবা সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে।
তিনি জানান, বর্তমানে ঢাকার বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকা ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রসহ প্রায় ৪০টি স্থানে সীমিত পরিসরে ৫জি সেবা চালু রয়েছে। রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, খুলনা ও সিলেট বিভাগীয় শহরসহ কক্সবাজারের ৪০০টিরও বেশি স্থানে সীমিত আকারে ৫জি সেবা দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘সবার জন্য দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট’ বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি পিএলসি বর্তমানে কক্সবাজার ও কুয়াকাটার ল্যান্ডিং স্টেশনের মাধ্যমে সি-মি-উই-৪ এবং সি-মি-উই-৫—এই দুটি সাবমেরিন কেবল ব্যবস্থা পরিচালনা করছে। এ দুই ব্যবস্থার সম্মিলিত ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা ৭ হাজার ২২০ জিবিপিএস।
বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ১০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সারা দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে এবং নেটওয়ার্কের নির্ভরযোগ্যতা ৯৯ দশমিক ৯৯৯ শতাংশ বজায় রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, চলমান সি-মি-উই-৬ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ৫জি সেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং গ্রামীণ এলাকায় ব্রডব্যান্ড সম্প্রসারণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রকল্পটি চালু হলে অতিরিক্ত ৩০ হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ যুক্ত হবে। ফলে দেশের মোট আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা প্রায় ৩৮ হাজার জিবিপিএসে উন্নীত হবে।





