হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচলে সহযোগিতার প্রস্তুতি ৬ দেশের

যুদ্ধবিরতি ছাড়া কোনো উদ্যোগ নয়, স্পষ্ট বার্তা ইউরোপীয় দেশগুলোর

স্টাফ রিপোর্টার | ২০ মার্চ ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

বিশ্বের ছয়টি প্রভাবশালী দেশ গতকাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে তারা ‘সহযোগিতা করতে প্রস্তুত’। তবে ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্স স্পষ্ট করেছে যে, যেকোনো উদ্যোগ কেবল যুদ্ধবিরতির পরেই কার্যকর হবে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও নেদারল্যান্ডস এক যৌথ বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বিবৃতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলে বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। একইসঙ্গে সংকট মোকাবিলায় প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া দেশগুলোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো হয়।

তবে পরবর্তীতে ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্স জানায়, তারা এখনই কোনো সামরিক সহায়তা দেবে না। বরং যুদ্ধবিরতির পর বহুপাক্ষিক উদ্যোগের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে।

ইরানের অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। সাধারণ সময়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে বোমা হামলা শুরু করলে সংঘাতের সূচনা হয়। এর জবাবে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলা চালায়। এ পর্যন্ত ১০টি তেলবাহী ট্যাংকারসহ ২৩টি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)’র তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে প্রায় ৩ হাজার ২০০ জাহাজে থাকা ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ইরানকে হুমকি, মাইন স্থাপন, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি, যা জাতিসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশনে অন্তর্ভুক্ত।

এতে সতর্ক করা হয়, ইরানের কর্মকাণ্ডের প্রভাব বিশ্বব্যাপী পড়বে, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে ন্যাটো ও অন্যান্য বিশ্বশক্তির সহায়তা চেয়েছেন। তবে দেশগুলো তাৎক্ষণিক সামরিক সহায়তা না দিলেও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আলোচনার পথ খোলা রেখেছে।

ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো বলেন, এই উদ্যোগকে ‘যুদ্ধ অভিযান’ হিসেবে দেখা উচিত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধবিরতি ও পূর্ণাঙ্গ বহুপাক্ষিক কাঠামো ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্তোরিয়াস জানান, জার্মানির সামরিক অংশগ্রহণ নির্ভর করবে যুদ্ধবিরতি-পরবর্তী পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক ম্যান্ডেট এবং পার্লামেন্টের অনুমোদনের ওপর।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচলের জন্য একটি আন্তর্জাতিক কাঠামো গড়ে তোলা যায়।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো দেশই তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে আগ্রহী নয়। তবে লন্ডন থেকে কিছু সামরিক পরিকল্পনাকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডে পাঠানো হয়েছে।