স্টাফ রিপোর্টার | ৩০ মার্চ ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
ইউনিসেফ থেকে হামের টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, এমপি।
আজ সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, দেশে হামের (মিজেলস) সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থায় জোর দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার টিকা ক্রয়ে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
তিনি জানান, জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ থেকে এই টিকা সংগ্রহ করা হবে এবং আগামী এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে টিকা সরবরাহ শুরু হতে পারে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউ চালু, ভেন্টিলেটর সরবরাহ এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ড প্রস্তুতের কাজ চলছে। মহাখালীতে একটি শিশুর মৃত্যুর পর বন্ধ থাকা একটি আইসিইউ ইউনিট মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যে চালু করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে শিশুদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড, আইসোলেশন সুবিধা ও ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মানিকগঞ্জ ও রাজশাহীতেও নতুন ভেন্টিলেটর পাঠানো হয়েছে এবং আরও ২০টি ভেন্টিলেটর সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, গত এক দশকে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম থাকলেও ২০১৮ সালের পর বড় কোনো হামের টিকা ক্যাম্পেইন হয়নি। ফলে যেসব শিশু টিকার আওতায় আসেনি বা পরে জন্ম নিয়েছে, তাদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “যারা টিকা পায়নি, তাদের মধ্যেই হামের প্রকোপ বেশি।”
মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে টিকা ক্রয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং অর্থ ইউনিসেফকে পরিশোধ করা হয়েছে। পারচেস কমিটির অনুমোদন পেলেই অর্ডার দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, টিকার অর্থ ইতোমধ্যে ইউনিসেফকে পরিশোধ করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত টিকা দেশে চলে আসবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে টিকা পাওয়া শুরু হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
সচেতনতা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে হবে এবং শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে টিকা কমিটি ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।





