১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুটি ভোট দেওয়ার আহ্বান, গণভোটে সংস্কারের পক্ষে অবস্থানের ডাক

ভালো নেতৃত্ব বাছাই ও ক্ষমতার ভার জনগণের হাতে আনতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার | ১১ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটারদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রেজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, একটি ভোটের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচন এবং একই দিনে গণভোটে অংশ নিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভার শাসকগোষ্ঠীর কাছ থেকে জনগণের হাতে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

রেজওয়ানা হাসান বলেন, সাধারণ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সময় ভোটারদের বিবেক ও বুদ্ধি কাজে লাগাতে হবে, যাতে পরবর্তীতে আর পস্তাতে না হয়। “আমরাই ভোট দিই, আবার আমরাই বলি নেতারা ভালো না—এটা যেন আর না হয়। ভালো নেতা দেখেই ভোট দিতে হবে,” বলেন তিনি।

একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি হচ্ছে বাংলাদেশের ক্ষমতার ভার জনগণের দিকে নিয়ে আসার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। “যদি সত্যিই সংস্কার চান, তাহলে গণভোটে অংশ নিয়ে আমাদের ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। চুপ করে বসে থাকলে বা না বললে এই সুযোগ বহু বছরের জন্য হারিয়ে যেতে পারে,” বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোর বিষয়ে নাগরিকদের নিজে পড়ে বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে সংস্কার নিয়ে প্রচারণা ও ব্যাখ্যামূলক নোট প্রস্তুত করে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তরুণ সমাজের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রেজওয়ানা হাসান বলেন, স্বৈরতন্ত্রের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করতে তরুণ সমাজ যে ভূমিকা রেখেছে, সেই তরুণদের হাত ধরেই এখন গণতন্ত্রের ভিত সংস্কারের মাধ্যমে শক্ত করতে হবে। শুধু স্বৈরাচার পতনে সন্তুষ্ট হয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই।

অতীতের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আন্দোলনে সফল হলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রত্যেক নাগরিককে সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হয়।

ভয়ভীতি প্রদর্শনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোটারদের নিরুৎসাহিত করতে নানা ধরনের ভয় দেখানো হতে পারে। তবে অতীতের মতো এবারও জনগণ ভয়কে জয় করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শেষে তিনি বলেন, তরুণদের আত্মত্যাগ ও আত্মবিসর্জনের প্রতি সম্মান জানিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়ে গণতন্ত্রের ভিত্তি রচনায় জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।