স্টাফ রিপোর্টার | ১৭ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
মৌলভীবাজার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলে যারা হুমকি দিচ্ছে তারা জনগণের স্বার্থে নয়, নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে। তাদের বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।
বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ বিএনপিকে আগামী পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য সময় দিয়েছে। যারা বিএনপিকে সময় দিতে চায় না, তারা জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।
একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামের সময়ে তাদের ভূমিকা জনগণের জানা আছে। অথচ বিএনপির নেতা-কর্মীরাই আন্দোলন-সংগ্রামে সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছে।
তিনি বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে স্পষ্ট ম্যান্ডেট দিয়েছে দেশ গড়ে তোলার জন্য। স্বৈরাচার দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে গেছে, এখন সেটি পুনর্গঠনের দায়িত্ব আমাদের।”
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজারের প্রান্তিক নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন। তিনি ১০ জন নারীর হাতে সরাসরি ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন এবং বাটন চেপে মৌলভীবাজারের ১৯টি ওয়ার্ডসহ দেশের আরও ২১ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় তৃতীয় পর্যায়ের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
এ সময় তিনি চা শ্রমিকদের আবাসন সহায়তা, শ্রমিক সন্তানদের বৃত্তি, প্রতিবন্ধী, দুঃস্থ ও প্রান্তিক মানুষের জন্য এককালীন আর্থিক সহায়তার চেকও বিতরণ করেন।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির প্রতিশ্রুতির পরিকল্পনা মূলত জনগণের পরিকল্পনা। যারা এসব উদ্যোগ ভেস্তে দিতে চায়, তাদের ব্যাপারে জনগণকে সজাগ থাকতে হবে। জনগণ সতর্ক থাকলেই দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে না।
অর্থ পাচারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অতীতে দেশের বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। বর্তমান সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেই প্রবণতা রোধ করবে। দেশের সম্পদ দেশের মানুষের কল্যাণেই ব্যয় করা হবে।
দেশ গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মক্ষম শক্তিতে রূপান্তর করতে পারলেই বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতা এবং ২০২৪ সালে স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় জনগণই প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। ভবিষ্যতেও জনগণই দেশ গঠনের মূল শক্তি হবে।
উপস্থিত নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনের রাজনীতি, কর্মপরিকল্পনা ও প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে দেশ ও দেশের মানুষ।
সরকার গঠনের পর ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী, শিক্ষার্থীদের পোশাক বিতরণ এবং ক্রীড়া উন্নয়নসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের সুফল দলমত নির্বিশেষে দেশের সব মানুষ ভোগ করবে।
সমাজকল্যাণ ও মহিলা-শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারহানা শারমিন, জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গউস, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠান শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সড়কপথে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।





