১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কল্যাণ বয়ে আনুক: ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশের আহ্বান জামায়াত আমিরের

ডিজিটাল ক্যাম্পেইন বাস ও অফিস উদ্বোধনে ড. শফিকুর রহমানের বক্তব্য

স্টাফ রিপোর্টার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, নিউ চ্যানেল বিডি

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ন্যায়, ইনসাফ ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ মানে ভূগোল পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার চরিত্র ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন।

মিরপুর ও কাফরুল এলাকায় জামায়াতের ডিজিটাল ক্যাম্পেইন বাস ও দলীয় অফিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. শফিকুর রহমান বলেন, গত ৫৪ বছরে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ সময় জনগণের ওপর জুলুম করা হয়েছে এবং ফ্যাসিবাদ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা আর দেখতে চায় না জনগণ। জামায়াতে ইসলামী ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চায়।

তিনি বলেন, “আমরা শিশুদের জন্য নিরাপদ দেশ চাই, মা-বোনদের জন্য নিরাপদ সমাজ চাই এবং বেকার যুবকদের হাতে সম্মানের কাজ তুলে দিতে চাই। আমরা কাউকে বেকার ভাতা দিয়ে বেকার রাখতে চাই না, আমরা বেকারত্বের অবসান চাই।”

মিরপুর ও কাফরুল এলাকায় দীর্ঘদিন সন্ত্রাসের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন এবং বলেন, যারা এই শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম, আল্লাহ যেন তাদের হাতেই এই দায়িত্ব অর্পণ করেন।

ড. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জনগণের ভোট, সমর্থন ও ভালোবাসায় সরকার গঠনের সুযোগ পেলে জামায়াত দেশের মালিক নয়, বরং জনগণের সেবক হয়ে কাজ করতে চায়। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যার যেটা পাওনা, ওজন করে সেই অধিকার তার ঘরে পৌঁছে দেওয়াই তাদের অঙ্গীকার।

তিনি রাজপথে দীর্ঘ আন্দোলন, মিছিল ও জনদুর্ভোগের রাজনীতি পরিহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা এমন বাংলাদেশ আর দেখতে চাই না, যেখানে মানুষ দিনের পর দিন রাস্তায় বসে থাকে, কষ্ট পায়, অথচ দেখার বা শোনার কেউ থাকে না।”

যুবসমাজ ও নারীদের অবদানের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, এই আন্দোলনে যুবকদের পাশাপাশি মা-বোনরাও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। ভবিষ্যতে নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, নিরাপদ চলাচল এবং নিরাপদ পরিবার গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

বক্তব্যের শেষে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চান, যেন আল্লাহ তায়ালা জামায়াতে ইসলামীকে তার বলা কথাগুলো বাস্তবায়নের তৌফিক দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এই আয়োজন যেন আল্লাহর রহমত ও বরকতে পরিপূর্ণ হয়।