২৯ বছর পরে সালমান শাহ হত্যাচেষ্টা মামলা রূপ নিল, হত্যা মামলা; সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

২৯ বছর পর অপমৃত্যু মামলা হত্যা মামলায় রূপ নেয়; আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, রমনা থানা জানিয়েছে ইমিগ্রেশনকে চিঠি

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা

জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা সালমান শাহ–এর রহস্যজনক মৃত্যুকে দীর্ঘ ২৯ বছর পর হত্যাকাণ্ড হিসেবে রূপান্তর করা হয়েছে। গত সোমবার আদালত ওই হত্যা মামলায় তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হক–সহ মোট ১১ জনকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতের নির্দেশনার পর রমনা থানা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে চিঠি প্রেরণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা (no-exit order) জারি করার ব্যপারে অবহিত করেছে।

এদিকে মামলার নথিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ১৯৯৭ সালের রেজভীর জবানবন্দি, যেখানে রেজভী সালমান শাহকে হত্যা করার দায় স্বীকার করেছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। ঐ জবানবন্দিতে রেজভী দাবি করেছেন— সালমান শাহকে হত্যার জন্য ১২ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল, যে চুক্তিতে নাম রয়েছে সামিরার শাশুড়ি লতিফা হক লুসি ও বাংলা চলচ্চিত্র জগতের কয়েকজন (ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদ)। রেজভী আরও জানান, মূল পরিকল্পনা ও অর্থের প্রথম কিস্তি ১৯৯৬ সালের এক বৈঠকে নির্ধারিত হয়েছিল।

রেজভীর বর্ণনায়, হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়া রাতে (১৯৯৬ সালের ৫/৬ সেপ্টেম্বরের রাত্রি) একদল ব্যক্তি সালমান শাহের বাসায় ঢুকে তাঁকে ক্লোরোফর্ম দিয়ে বেহুশ করে, পরে ইনজেকশন ও ঘাতক উপকরণ ব্যবহার করে তাকে হত্যা করা হয় এবং মৃতদেহ সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে রাখা হয়—ইত্যাদি প্রতিবেদনভিত্তিক বর্ণনা উল্লেখ আছে।

ঘটনাস্থল: ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬— তখন মাত্র ২৫ বছর বয়সে ঢাকার ইস্কাটন থেকে সালমান শাহের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি বিভিন্ন তদন্তে অপমৃত্যু হিসেবে দেখিয়ে দেওয়া হলেও বরাবরের মতো আসল প্রশ্নগুলো অমীমাংসিত ছিল। মামলাটি হত্যা হিসেবে রূপ নেওয়ায় ফের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পথ সুগম হয়েছে।

মামলার প্রধান অভিযোগভুক্তদের তালিকায় আছে:
সামিরা হক (প্রধান আসামি), প্রযোজক আজিজ (মোহাম্মদ) ভাই, খলনায়ক ডন, লতিফা হক লুসি (শাশুড়ি), ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবি (মেফিয়ার বিউটি সেন্টারের), আবদুস সাত্তার, সাজু ও রেজভী আহমেদ ফরহাদ।

অপরদিকে, যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে ছেলে হত্যার বিচারের লড়াই চালিয়ে আসা নীলা চৌধুরী (সালমান শাহর মা) বিভিন্ন গণমাধ্যমকে দিয়েছে বক্তব্যে বলেন— দীর্ঘদিন পর ন্যায়বিচারের আশা জাগেছে, দ্রুত বিচার হবে বলে তিনি আশাবাদী। তার ভাষ্য থেকে কিছু অংশ:

“দীর্ঘদিন পরে একটা ভরসার জায়গা তৈরি হলো… আমার সমস্ত শরীর–মন খালি খালি মনে হচ্ছে। ছেলেকে মার্ডার করা হয়েছে, মামলা হচ্ছে… যে সব মানুষ আমাকে ২৯ বছর ধরে ব্লেম করেছে—টাকা সাপেক্ষে একটা দিন আইনে প্রমাণ হবে, আমি বিশ্বাস করেছিলাম।”

নীলা আরও জানিয়েছেন, “এক মাস আগে ডন আমাকে হুমকি দিয়েছে”—এমনকি প্রেসক্লাবে যাওয়া-আসায়ও তিনি নিরাপত্তাহীনতার অনুভব করেন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, যারা তাকে হুমকি দিয়েছে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে।

এখনকার পরিস্থিতি: আদালতের নির্দেশে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ও প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তে কাজ শুরু হয়েছে; ইমিগ্রেশনকে চিঠি প্রেরণের ফলে আসামিদের দেশত্যাগ রোধ করা হয়েছে—যাতে বিচারের পরিণতি নিশ্চিত করা যায়। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালত ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিকটবর্তী আদেশক্রমে চলবে।