উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম সংস্করণ দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি শুধু পণ্যের প্রদর্শনী নয়; বরং নতুন উদ্যোগ, উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিক অগ্রগতির প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্ব বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। রপ্তানি পণ্যের উন্নয়ন ও বহুমুখীকরণ, নতুন বাজার অনুসন্ধান, অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনই এই মেলার মূল লক্ষ্য।
বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, এলডিসি গ্রাজুয়েশন পরবর্তী সময়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে গত ডিসেম্বর মাসে একই ভেন্যুতে ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ২০২৫ ঢাকা’ আয়োজন করা হয়, যা দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে সহায়ক হয়েছে।
তিনি উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, এই মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা বাজার চাহিদা বিশ্লেষণ, ক্রেতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও আন্তর্জাতিক মান সম্পর্কে ধারণা লাভ করবেন, যা রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে তিনি ঘোষণা দেন, ‘পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং প্রোডাক্টস’ কে ২০২৬ সালের ‘প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান ও এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো. আব্দুর রহিম খান।
উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতীয় শোকের কারণে মেলার উদ্বোধন ১ জানুয়ারি থেকে পিছিয়ে ৩ জানুয়ারি করা হয়।
এবারের মেলায় পলিথিন ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিশেষ শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে।
মেলায় মোট ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন, স্টল ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে। প্রবেশ টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা। মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও জুলাই আন্দোলনে আহতরা বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবেন।
১৯৯৫ সাল থেকে দেশীয় পণ্যের প্রচার, শিল্পোৎপাদন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করে আসছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো।





