৫ই আগস্ট এই সরকারের প্রথম অধ্যায় শেষ আজ থেকে দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু প্রধান উপদেষ্টা।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা সচিবালয়ে প্রবেশ করেছেন। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নবনির্মিত ১…

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা সচিবালয়ে প্রবেশ করেছেন। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নবনির্মিত ১ নম্বর ভবনের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শুরু হয়। এটি এই নতুন ভবনে প্রথমবারের মতো কোনো সরকারপ্রধানের বৈঠক।
প্রধান উপদেষ্টার সচিবালয় আগমনকে কেন্দ্র করে সচিবালয় এবং এর আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ: দ্রুত নির্বাচনের বিকল্প নেই

নির্বাচনের সময় ঘোষণা, প্রবাসীদের ভোটাধিকার ও প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছতা—নতুন আশাবাদের বার্তা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণকে দেশে বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক স্পষ্ট ঘোষণার প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তিনি ভাষণে জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে, অর্থাৎ রমজানের আগেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন আয়োজনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি বুধবার (গতকাল) থেকেই শুরু হয়েছে এবং শিগগিরই নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠানো হবে বলেও তিনি জানান।

প্রবাসীদের জন্য সুখবর

ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটদানের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার বার্তা

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গত ১৫ বছরে দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। তাই তিনি চান, এবারের নির্বাচন যেন একটি আনন্দঘন গণতান্ত্রিক উৎসবে পরিণত হয়। এই বক্তব্য নিঃসন্দেহে যথার্থ এবং সময়োপযোগী। বিগত সময়ে ভোটাধিকার হরণের কারণে জনগণের মধ্যে যে ক্ষোভ ও হতাশা জমে ছিল, তা থেকে উত্তরণের অন্যতম পথই হলো একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।

নির্বাচন নিয়ে ঐকমত্য জরুরি

প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণাকে সব রাজনৈতিক দলেরই স্বাগত জানানো উচিত। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, এখনো কিছু রাজনৈতিক দল সংস্কার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিতে অনিচুক। বাস্তবতা হলো— সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। অন্তর্বর্তী সরকার তা শুরু করেছে, কিন্তু চূড়ান্ত সংস্কার সম্পন্ন করা হবে গণতান্ত্রিক সরকারের হাতেই।

বিলম্ব মানেই নতুন ষড়যন্ত্রের সুযোগ

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচনের বিলম্ব মানেই ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি। পতিত স্বৈরাচারী গোষ্ঠী এখনো সক্রিয়, নির্বাচন পিছিয়ে গেলে তারা আরো সংঘবদ্ধ হয়ে উঠতে পারে। তাই নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন আয়োজন রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের স্বার্থে অপরিহার্য।

অপরাধের বিচার ও দায়বদ্ধতা

এছাড়া নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারকে জুলাই অভ্যুত্থান দমনে জড়িতদের বিচার ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। এ পদক্ষেপই ভবিষ্যতে যেকোনো স্বৈরশাসনের সম্ভাবনাকে রোধ করবে।

আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত তারিখ নির্ধারণই উত্তম পথ

সবকিছু বিবেচনায়, আমরা মনে করি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করাই হবে সরকারের জন্য সর্বোত্তম পদক্ষেপ। জনগণ এই আশাই করছে— একটি গ্রহণযোগ্য, সময়োপযোগী ও আনন্দমুখর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পূর্ণতা লাভ করবে।