স্টাফ রিপোর্টার ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ নিউজ চ্যানেল বিডি
আইন ও সংবিধান যেটা নির্ধারণ করেছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সেখানেই অবস্থান করছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, এতে দল লাভবান হবে না ক্ষতিগ্রস্ত হবে—তা তাদের বিবেচ্য নয়; বরং সংবিধান ও আইনের শাসনই তাদের মূল অবস্থান।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ঋণখেলাপিদের বৈধ করা কোনোভাবেই ঠিক হবে না। পাশাপাশি সংবিধানের আলোকে দ্বৈত নাগরিকত্বধারীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্য নন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাহের বলেন, “আমাদের সংবিধান স্পষ্টভাবে বলেছে—একজন ব্যক্তি একসঙ্গে দুই দেশের নাগরিক হতে পারে না।”
দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট জমা, আবেদন, ক্লিয়ারেন্সসহ সব বিষয় যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তবে মূল কথা হচ্ছে—দ্বৈত নাগরিক এখানে বৈধ নয় এবং তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।”
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত নেতা বলেন, “আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি—নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট এবং তারা একটি বিশেষ দলের স্বার্থে কাজ করার চেষ্টা করছে।”
তিনি জানান, এ বিষয়ে তারা সম্প্রতি চিফ ইলেকশন কমিশনার ও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা বিষয়টি সংশোধনের চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তবে এরপরও যদি দেখা যায় নির্বাচন কমিশন একদিকে হেলে পড়ছে, তাহলে সেখানে জামায়াতের জন্য শক্ত অবস্থান নেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না বলে সতর্ক করেন তিনি।
অ্যাডভোকেট তাহের বলেন, “২০০৮ সালের মতো আরেকটি অসম ও ভারসাম্যহীন নির্বাচন বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না।” তিনি এটিকে দুর্ভাগ্যজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে এককভাবে রাষ্ট্রের সব অনিয়ম দূর করা সম্ভব নয়, তবে তার চারপাশে যারা দায়িত্বে আছেন তাদের দুর্বলতা সংশোধন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা যদি না জেনেই একটি পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচনের দিকে দেশকে এগিয়ে নেন, তাহলে আমরা সেটি স্বাভাবিকভাবে নেব না এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
শেষে জামায়াত নেতা বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে যতটুকু সহযোগিতা প্রয়োজন, আমরা সবটুকুই করব ইনশাল্লাহ। তবে এরপরও যদি দেখা যায় নির্বাচন সঠিক ও সুষ্ঠু হচ্ছে না, তাহলে তার পরিণতি মোকাবিলা করতেই হবে।”





