সুষ্ঠু নির্বাচনে সহযোগিতা করছি, তবে প্রশাসনিক আচরণ নিয়ে উদ্বেগ আছে: আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

মোবাইল ফোন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক রদবদল ও অভিযোগ নিষ্পত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা চায় ১১ দলীয় জোট

স্টাফ রিপোর্টার,৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,নিউজ চ্যানেল বিডি

নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ১১ দলীয় জোটের নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, শুরু থেকেই তাদের মূল অগ্রাধিকার ছিল একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে যাচ্ছেন তারা।

তিনি বলেন, সম্প্রতি মোবাইল ফোন সংক্রান্ত যে সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে এসেছে, তা নিয়ে আলোচনা করতে তারা নির্বাচন কমিশনে গিয়েছেন এবং বিষয়টি সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সমাধানের পথে রয়েছে। তবে এ ধরনের আকস্মিক সিদ্ধান্ত যেন আর না আসে, সেদিকে কমিশনকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক রদবদলের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে না। তার দাবি, কিছু ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট দল বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে। মাঠপর্যায়ে এমন ঘটনাও ঘটেছে যেখানে কোনো প্রার্থীকে শোকজ করার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দ্রুত প্রত্যাহার হয়ে গেছেন।

তিনি আরও বলেন, কিছু কর্মকর্তা অস্বাভাবিক আচরণ করছেন এবং ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বা নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। এমনকি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর ওপরও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে কয়েকজন নির্দিষ্ট কর্মকর্তার অপসারণ ও বদলির দাবি জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো জবাব না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন।

তার মতে, অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনের একটি কার্যকর টাস্কফোর্স থাকা প্রয়োজন, যাতে অভিযোগ এলে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত ও জবাব দেওয়া যায়। জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

মোবাইল ফোন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে ১১ দলীয় জোট ঘেরাও কর্মসূচির দিকেও যেতে বাধ্য হয়েছিল। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি তৈরি না করতে কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিএনসিসি সদস্যদের ভোটকেন্দ্রে না রাখার বিষয়ে একটি দলের দাবির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে। ১১ দলীয় জোটের স্পষ্ট দাবি, এবারের নির্বাচনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএনসিসি সদস্যদের কেন্দ্রে রাখা উচিত।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করবে।