জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট: ‘হ্যাঁ’ জিতলে সংবিধানসহ যেসব বড় পরিবর্তন আসছে

জুলাই সনদ কার্যকরে ৪৭টি সাংবিধানিক ও ৩৭টি আইনগত সংস্কার, ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি

ছবি : সংগ্রহীত

Posted by:

on

ঢাকা | স্টাফ রিপোর্টার | বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি


বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল আলোচিত গণভোট। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে কার্যকর হবে জুলাই সনদ, যার মাধ্যমে সংবিধানসহ রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। তবে মাত্র চারটি প্রশ্নে একবারেই ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার বিধান থাকায় অনেক ভোটারই পুরো পরিবর্তনের চিত্র সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাচ্ছেন না।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন কমিশন, রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলেই এটি কার্যকর হবে।

জুলাই সনদে কী আছে

জুলাই সনদে মোট ৮৪টি প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে—

  • ৪৭টি সাংবিধানিক সংস্কার,
  • ৩৭টি আইন, অধ্যাদেশ ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাব

অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে সংবিধান সংশোধনের পাশাপাশি নির্বাহী আদেশে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

ভাষা, জাতি ও মূলনীতিতে পরিবর্তন

বর্তমানে সংবিধানে শুধু বাংলা ভাষার স্বীকৃতি রয়েছে। জুলাই সনদ কার্যকর হলে—

  • রাষ্ট্রভাষা থাকবে বাংলা,
  • তবে সব মাতৃভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি মিলবে।

এছাড়া নাগরিক পরিচয়ে ‘বাঙালি’ শব্দের পরিবর্তে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয় যুক্ত হবে।

বর্তমান সংবিধানের মূলনীতি— বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।
জুলাই সনদে নতুন মূলনীতি হিসেবে যুক্ত হবে—
সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি

মৌলিক অধিকার ও জরুরি অবস্থা

বর্তমানে ২২টি মৌলিক অধিকারের সঙ্গে যুক্ত হবে—

  • নির্বচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ব্যবহারের অধিকার,
  • ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা।

জরুরি অবস্থা জারির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসবে। প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তের বদলে মন্ত্রিসভার অনুমোদন লাগবে এবং এ সময় মৌলিক অধিকার স্থগিত করা যাবে না।

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সংস্কার

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের গোপন ব্যালটের ভোটে।
  • প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি দায়িত্বে থাকতে পারবেন না।
  • প্রধানমন্ত্রী একাধিক পদে থাকতে পারবেন না।
  • এককক্ষ সংসদের পরিবর্তে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠনের প্রস্তাব।
  • বাজেট ও আস্থা বিল ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও বিচার বিভাগ

জুলাই সনদে পুনরায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। সরকার গঠনে সরকারি দল, বিরোধী দল ও দ্বিতীয় বিরোধী দলের মতামত অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে হবে আপিল বিভাগ থেকে। সুপ্রিম কোর্টের জন্য আলাদা সচিবালয় এবং বিচারকদের জন্য বাধ্যতামূলক আচরণবিধির কথাও বলা হয়েছে।

বিদেশি চুক্তি ও ক্ষমা প্রদানের বিধান

রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিদেশি চুক্তির ক্ষেত্রে সংসদের উভয় কক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হবে।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবারের সম্মতি লাগবে।

‘না’ জিতলে কী হবে

গণভোটে ‘না’ বিজয়ী হলে জুলাই সনদ কার্যকর হবে না। সেক্ষেত্রে সংবিধান ও রাষ্ট্র পরিচালনায় আগের ব্যবস্থাই বহাল থাকবে—যাকে বিশেষজ্ঞরা ‘ব্যাক টু স্কয়ার ওয়ান’ বলে উল্লেখ করছেন।

অপেক্ষা ১২ ফেব্রুয়ারির ফলাফলের

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’—উভয় পক্ষেই জোর প্রচারণা চলছে। শেষ পর্যন্ত জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের ফলাফলের মাধ্যমেই।