স্টাফ রিপোর্টার, ০৭ মার্চ ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান ‘বেআইনি হামলার’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। শুক্রবার তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাত বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি যে কোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
জাতিসংঘ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনী। এর জবাবে ইরানও ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
ওয়াশিংটন বলছে, তেহরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি ঠেকাতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে হামলার পর ইরানের সরকার কার্যত নেতৃত্ব সংকটে পড়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করেছেন।
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গুতেরেস বলেন, “মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরে চলমান সব বেআইনি হামলা ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগ ও ক্ষতির কারণ হচ্ছে। এটি বিশ্ব অর্থনীতি, বিশেষ করে অসহায় মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “পরিস্থিতি সবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এখন লড়াই থামানোর এবং গুরুত্বের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করার সময়।”
এদিকে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার বলেছেন, চলমান যুদ্ধে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে, যা একটি রেকর্ড পরিমাণ অর্থ।
তিনি বলেন, “আমরা দেখছি এই যুদ্ধে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। অথচ অনেক রাজনীতিবিদ অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ করা সহায়তা তহবিল কাটছাঁট করার কথা বলছেন।”
ফ্লেচার আরও বলেন, “আমরা প্রযুক্তি এবং বিচারহীনভাবে মানুষ হত্যার এক ভয়াবহ সমন্বয় দেখতে পাচ্ছি।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, মানুষের ধ্বংসাত্মক প্রবৃত্তি ও বেপরোয়া যুদ্ধ ঠেকাতে যে আইন ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলোর ওপর এখন লাগাতার আঘাত করা হচ্ছে।
যুদ্ধের অন্যান্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, এই সংঘাতের কারণে বাজার ব্যবস্থা ও সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হচ্ছে এবং খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। এতে সবচেয়ে অসহায় মানুষগুলোই সবার আগে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।





