স্টাফ রিপোর্টার, ০৯ মার্চ ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি
ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নির্দেশনায় আজ প্রথমবারের মতো সরাসরি ইসরাইলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে তার ছেলে মোজতবা খামেনি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর এটিই তার শাসনামলে তেহরানের প্রথম বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ।
এই হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এক নতুন ও ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল তাকে পরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার হুমকি দিয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর দেশটির তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের জন্য শিয়া ধর্মগুরুরা একত্রিত হন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক ঘোষক ৫৬ বছর বয়সী নতুন নেতার ছবির পাশে ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদের একটি বিবৃতি পড়ে শোনান।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দায়িত্বে মোজতবা খামেনিকে নির্বাচন ও ঘোষণা করা হয়েছে। ‘অপরাধী আমেরিকার নৃশংস আগ্রাসন এবং দুষ্ট ইহুদিবাদী শাসনব্যবস্থার’ নির্মম আগ্রাসন সত্ত্বেও ধর্মীয় সংস্থা ‘এক মিনিটের জন্যও নতুন নেতা নির্বাচন করতে দ্বিধা করেনি।’
এর কিছুক্ষণ পর রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ইসরাইলে নিক্ষেপ করা একটি ক্ষেপণাস্ত্র দেখানো হয়, যেখানে ‘আপনার আদেশে, সাইয়্যেদ মোজতবা’ লেখা ছিল। আজ ভোরে কাতারে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যেখানে একটি প্রধান মার্কিন বিমান ঘাঁটি অবস্থিত।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করেছে। সেই দমনকার্যে হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে তথ্য রয়েছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই মোজতবা খামেনিকে নতুন নেতা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে এবং তিনি তার পিতার মতোই কঠোর অবস্থান নেবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মোজতবা খামেনিকে ‘অযোগ্য’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং বলেছেন, নতুন নেতা যদি যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন না পান, তবে তিনি বেশি দিন টিকে থাকতে পারবেন না।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী নতুন নেতাকে সতর্ক করে বলেছে, ‘আমরা আপনাকে লক্ষ্যবস্তু করতে কোনো দ্বিধা করব না।’





