স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণার প্রেক্ষাপট তৈরি হয় বলে মন্তব্য

স্টাফ রিপোর্টার, ২৬ মার্চ ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণার প্রথম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সেই প্রথম গণহত্যা শুরু হয় এবং এখান থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। তিনি উল্লেখ করেন, তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান এই গণহত্যার খবর পেয়ে চট্টগ্রামে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। পরে ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে বিশ্বের সমর্থন কামনা করা হয়। একেই তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার ‘প্রকৃত ইতিহাস’ বলে অভিহিত করেন।

শহিদদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, রাজারবাগ পুলিশ লাইনের পুলিশ সদস্যদের রক্তদানই স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা ঘটায়।

মন্ত্রী আরও জানান, সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে তিনিও সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি রাজারবাগে আসেন। দীর্ঘ কয়েক বছর পর স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ পুনরায় শুরু হওয়াকে তিনি আনন্দের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শহিদদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দেশে নতুনভাবে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত থাকবে।

ভারত থেকে ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের হস্তান্তর প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আসামিদের ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। বন্দি বিনিময় চুক্তি অনুযায়ী তাদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পুলিশ সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সমৃদ্ধ করতে বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত রাষ্ট্রের কাছ থেকে কারিগরি সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে সকাল সাড়ে সাতটায় রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ স্মৃতিসৌধে প্রথমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় একটি সুসজ্জিত পুলিশ দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে এবং বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর।

পরে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহিদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

এছাড়াও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ সরওয়ার, বিপিএম; বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক (বিপিউব্লিউএন) পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।