নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরা; ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খননসহ নানা উদ্যোগে অগ্রগতি



স্টাফ রিপোর্টার | ১ এপ্রিল ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

জাতীয় সংসদে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে ১৮০ দিন, আগামী অর্থবছর এবং আগামী ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে সিলেট-2 আসনের সংসদ সদস্য মোছা. তাহসিনা রুশদীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সকল মন্ত্রণালয় স্বল্পমেয়াদে (১৮০ দিন), মধ্যমেয়াদে (আগামী অর্থবছর) এবং দীর্ঘমেয়াদে (৫ বছর) কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে কাজ করছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে অগ্রগতি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে ৩৭ হাজার ৮১৪টি নারীপ্রধান পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া শুরু হয়েছে। কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা পাইলট প্রকল্প হিসেবে ১০টি জেলায় শুরু হবে।

এছাড়া কৃষি খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৯ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে সম্মানী প্রদান করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর লক্ষ্যে খুলনা জেলায় ২৫ লাখ কার্ড বিতরণের প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পানি ব্যবস্থাপনায় ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি বনায়নের আওতায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ চারা উৎপাদন করা হয়েছে।

শিক্ষা খাতে ২ লাখ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ, ৯ হাজার শিক্ষককে ট্যাব প্রদান, ৩৮৩২টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দক্ষতা উন্নয়নে বিদেশি ভাষা শিক্ষা, ক্রীড়াবিদদের জন্য ভাতা চালু এবং তরুণদের কর্মসংস্থানে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু হবে। ইতোমধ্যে ২২ হাজার কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম তিনি সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী দলের একাধিক সদস্য বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করেন।

এদিকে, সংসদীয় কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত করতে সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিন প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তরের জন্য নির্ধারণের প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়েছে। স্পিকার বিষয়টি বিবেচনার জন্য রেফার করেছেন।