নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের নানা পদক্ষেপ: বাণিজ্যমন্ত্রী

আইন সংশোধন, শুল্ক কমানো ও বাজার তদারকি জোরদার; টিসিবির মাধ্যমে এক কোটি মানুষ পাচ্ছে ভর্তুকি সুবিধা



স্টাফ রিপোর্টার | ৫ এপ্রিল ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি


নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং সাশ্রয়ী মূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের (চট্টগ্রাম-১৩) টেবিলে উপস্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাজার স্থিতিশীল রাখা ও নিত্যপণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

মন্ত্রী জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণ আরও যুগোপযোগী করতে ‘এসেনশিয়াল কমোডিটিজ অ্যাক্ট, ১৯৫৬’ সংশোধন ও হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান আইনের আওতায় ভোজ্য তেলের দাম নির্ধারণ করে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তা সমন্বয় করা হচ্ছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত তিনবার দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গত বছরে অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল ছিল। তবে বছরের মাঝামাঝি এবং ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে পেঁয়াজের দাম কিছুটা বাড়লেও কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আমদানি বাড়ানোর মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ-কে দিয়ে ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও অন্যান্য দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণ মডেল পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের উপযোগী একটি কার্যকর মডেল প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চিনি, ভোজ্যতেল ও খেজুরের ওপর আমদানি শুল্ক কমিয়েছে, যা বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত বাজার তদারকি করছে। ঢাকাসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং বিশেষ করে রমজান ও উৎসবের সময়ে এসব কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, উৎপাদক, আমদানিকারক, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করা হচ্ছে। পাশাপাশি মন্ত্রী ও সচিব আকস্মিক বাজার পরিদর্শন করছেন, যার মধ্যে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারও রয়েছে।

এছাড়া এলপিজি সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে আমদানিকারক ও পরিবেশকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে এবং ব্যাংক-সংক্রান্ত সমস্যারও সমাধান করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, জেলা পর্যায়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স গুদাম, কোল্ড স্টোরেজ ও পাইকারি বাজার পরিদর্শন করছে, যাতে উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যে মূল্য ব্যবধান কমে আসে।

তিনি আরও জানান, টিসিবি কার্ডের মাধ্যমে প্রায় এক কোটি নিম্নআয়ের মানুষকে ভর্তুকি মূল্যে চাল, সয়াবিন তেল, চিনি ও ডাল সরবরাহ করা হচ্ছে, যা বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হচ্ছে।

এছাড়া সিলেটে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য সংগ্রহ করে একটি পাইলট কৃষি বাজার চালু করা হয়েছে। এটি সফল হলে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।