স্টাফ রিপোর্টার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
স্বপ্ন ছিল আকাশছোঁয়া, কিন্তু দারিদ্র্যের কঠিন বাস্তবতায় সেই স্বপ্ন যখন প্রায় ফিকে হয়ে আসছিল, ঠিক তখনই আশার আলো হয়ে দেখা দিলেন এক তরুণ নেতা। অর্থাভাবে ঢাকা ধানমন্ডির নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের এক মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন যখন থমকে যাওয়ার উপক্রম, তখন বড় ভাইয়ের মতো পরম মমতায় পাশে দাঁড়ালেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তারিক।
শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, আর সেই মেরুদণ্ড যাতে দারিদ্র্যের কষাঘাতে ভেঙে না যায়, তার অনন্য উদাহরণ হয়ে রইলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রদলের সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক তারিক। তার এই ব্যক্তিগত উদ্যোগ কেবল একজন শিক্ষার্থীর জীবন বাঁচায়নি, বরং সমাজে মানবিক রাজনীতির এক সুন্দর বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। সংকটে পড়া ওই শিক্ষার্থীর চোখে এখন কেবলই কৃতজ্ঞতা আর সুন্দর আগামীর স্বপ্ন।
মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ওই শিক্ষার্থীর জন্য বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলটি ছিল অন্যরকম। সামনেই ফাইনাল পরীক্ষা, অথচ পাহাড়সম বকেয়া বেতন আর ফরম পূরণের টাকার চিন্তায় তার চোখেমুখে ছিল অনিশ্চয়তার ছাপ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ছিল ফরম পূরণের শেষ দিন। টাকা জোগাড় না হলে এক বছরের পরিশ্রম পণ্ড হয়ে যেত তার।
ঠিক সেই সংকটকালে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন তরিকুল ইসলাম তারিক। বুধবার বিকেলে তিনি সরাসরি ওই শিক্ষার্থীর হাতে প্রয়োজনীয় আর্থিক অনুদান তুলে দেন, যা দিয়ে মেটানো সম্ভব হবে কলেজের বকেয়া এবং নিশ্চিত হবে ফরম পূরণ।
সাহায্য পেয়ে আবেগাপ্লুত ওই শিক্ষার্থী জানান তার দীর্ঘ লড়াইয়ের কথা। তিনি বলেন, “অ্যাডমিট কার্ড না পেলে আমি পরীক্ষায় বসতে পারতাম না। চরম এক দুঃসময়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম তারিক ভাই আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তার এই মানবিকতা আমাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস যুগিয়েছে। অতীতেও তার এমন অনেক কাজের কথা শুনেছি বলেই আমি তার কাছে গিয়েছিলাম।”
ছাত্রদল নেতা তরিকুল ইসলাম তারিকের কাছে বিষয়টি ছিল কেবলই একজন শিক্ষার্থীর প্রতি কর্তব্যবোধ। তিনি বলেন, “রাজনীতির ঊর্ধ্বে হলো মানবিকতা। ছেলেটি যখন আমাকে ফোন করে জানালো যে, সে পরীক্ষা দিতে পারবে না, আমি স্থির থাকতে পারিনি। আমি তাকে সরাসরি ডেকে কথা বলি এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে তার এই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “রাজনীতির মূল লক্ষ্যই হওয়া উচিত মানুষের সেবা। একজন মেধাবী ছাত্রের পড়াশোনা কেবল টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে যাবে—এটি মেনে নেওয়া কঠিন।”





