আজাদ রুহুল আমিন ৯ মে ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি বাগেরহাট
বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহিদ হওয়া শিক্ষার্থী সাব্বির মল্লিকের স্মরণে নির্মিতব্য স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করা হয়েছে। একইসঙ্গে উপজেলা বিএনপি’র উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বিকেল ৪টায় শেরে বাংলা কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্মৃতিস্তম্ভের ফলক উন্মোচন করেন ।
এ সময় তিনি বলেন, “শহিদ সাব্বির মল্লিক গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তরুণ সমাজের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তার আত্মত্যাগ ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নতুন প্রজন্ম যেন শহিদদের আত্মত্যাগ থেকে অনুপ্রেরণা নিতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রসমাজ সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। শহিদ সাব্বির মল্লিক সেই সংগ্রামেরই এক সাহসী প্রতীক। তার আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা , কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি , ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং শহিদ সাব্বির মল্লিকের বাবা । এছাড়াও জেলা ও উপজেলা বিএনপি’র বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে বিকেল ৫টায় কলেজের সেমিনার কক্ষে উপজেলা বিএনপি’র উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সভায় সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুবদলের আহ্বায়ক ।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, “দলকে আরও সুসংগঠিত করতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বিএনপি সবসময় গণমানুষের পাশে রয়েছে এবং থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক , সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক , সাংগঠনিক সম্পাদক , যুবদলের সদস্য সচিব এবং ইউনিয়ন বিএনপি’র পক্ষে ।
উল্লেখ্য, শহিদ সাব্বির মল্লিক একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। তার মাত্র দুটি পরীক্ষা বাকি ছিল। মাঝখানে দুই দিনের ছুটির সময় পরিবারের কাউকে না জানিয়ে দেশের টানে ঢাকায় যান তিনি। সেখানে আন্দোলনের মিছিলে পুলিশের গুলিতে তিনি শহিদ হন। পরে তার মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সযোগে বাগেরহাটে আনার সময় পথে পথে পুলিশ ও ছাত্রলীগের বাধার অভিযোগ ওঠে। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সের সামনের কাচও ভাঙচুর করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।





