জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় মানবতার দায়বদ্ধতার কথা বললেন শামা ওবায়েদ

রাবাতে মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে শান্তিরক্ষা সংস্কার, নারী অংশগ্রহণ ও প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহারে গুরুত্বারোপ

স্টাফ রিপোর্টার | ২১ মে ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন বর্তমান বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে শুধু একটি দায়িত্ব নয়, বরং মানবতার প্রতি বড় দায়বদ্ধতা হিসেবে বিবেচনা করে।

আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত বুধবার রাবাত-এ অনুষ্ঠিত ‘ফ্রাংকোফোন পরিবেশে শান্তিরক্ষা’ বিষয়ক দ্বিতীয় মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও কার্যকর শান্তিরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানান। একইসঙ্গে আধুনিক শান্তি তৎপরতায় উদীয়মান চ্যালেঞ্জ হিসেবে অপপ্রচার, ডিজিটাল হয়রানি এবং সংঘাতপূর্ণ পরিবেশে প্রযুক্তির নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

শামা ওবায়েদ ইসলাম জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আরও শক্তিশালী ও দূরদর্শী সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত কার্যপরিধি, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং সেনা ও পুলিশ প্রেরণকারী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেন। পাশাপাশি শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং (বিপসট)-এর মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মিশনপূর্ব প্রশিক্ষণের গুরুত্ব উল্লেখ করেন এবং পরিবেশবান্ধব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বহুপাক্ষিকতাবাদের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ।

বিশ্ব শান্তির সেবায় জীবন উৎসর্গকারী ১৭৪ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, জাতিসংঘের কার্যক্রমে বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীদের অংশগ্রহণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের যে শান্তিকামী পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, তা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর আমলে আরও সুসংহত হয়। সেই নীতিই আজও বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারকে পথ দেখাচ্ছে।

সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা সংস্কার এবং নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের চলমান উদ্যোগগুলোকে টেকসই শান্তির ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

সম্মেলনটি মরক্কো ও ফ্রান্স সরকারের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। এতে মরক্কোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফয়জুন্নেসা উপস্থিত ছিলেন।

পরে সন্ধ্যায় শামা ওবায়েদ ইসলাম ‘গ্লোবাল গ্রোথ কনফারেন্স ২০২৬’-এ অংশ নেন। সেখানে ‘জিওপলিটিক্স অব ফ্র্যাগমেন্টেশন: পাওয়ার, এস্কেলেশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক রিঅর্ডারিং’ শীর্ষক অধিবেশনে তিনি মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন। অধিবেশনে তিনি পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ভূরাজনীতি, ক্ষমতার পালাবদল এবং আন্তর্জাতিক বিভাজনের কৌশলগত প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।