গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের আয়না, বস্তুনিষ্ঠতাই এর প্রধান শক্তি: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য যাচাই ছাড়া গণমাধ্যমের বিশ্বস্ততা অর্জন সম্ভব নয়; ব্যাংকিং খাত সংস্কারে কমিশন গঠনের ইঙ্গিত

স্টাফ রিপোর্টার | ৭ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্র, সমাজ ও আধুনিক সভ্যতার একটি অপরিহার্য আয়না। সমাজ ও রাষ্ট্রকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করে তুলতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠতা ও তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা দুর্বল হলে সঠিক বাস্তবতা জনগণের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হয় না।

রোববার সকালে রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ব্যাংকখাতে সুশাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “গণমাধ্যমের একমাত্র শক্তি ও মানদণ্ড হতে হবে বস্তুনিষ্ঠতা। ফ্যাক্ট-চেকিং বা তথ্য যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা ছাড়া কোনো গণমাধ্যমের পক্ষে বিশ্বস্ততা অর্জন করা সম্ভব নয়।”

তিনি বলেন, রাষ্ট্র, সমাজ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সুশাসন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল হলে শুধু গণমাধ্যমের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবেশের ওপরই অনেকাংশে ব্যাংকিং খাতের জবাবদিহিতা নির্ভর করে।

ব্যাংকিং খাত সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রশাসন, গণমাধ্যম ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থায় সংস্কার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। একইভাবে ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান সমস্যা ও দুর্বলতা দূর করতে সরকার ভবিষ্যতে একটি ‘ব্যাংকিং কমিশন’ গঠনের বিষয় বিবেচনা করছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুঁজিবাজারকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে ব্যাংকিং খাতের পাশাপাশি শেয়ারবাজারকেও পুঁজির প্রধান উৎস হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ও আমানতকারীদের অর্থ নিয়ে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

সাংবাদিকদের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা কোন ভবনের কোন তলায় প্রবেশ করতে পারছেন, সেটি মূল বিষয় নয়; বরং তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তথ্য যেখানে থাকবে, সাংবাদিকদের সেখানে পৌঁছানোর সুযোগ থাকতে হবে।

অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের ভূয়সী প্রশংসা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অর্থনৈতিক সাংবাদিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জনগণের জানার অধিকার রক্ষা এবং নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য অনুসন্ধানী ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার বিকল্প নেই।

সেমিনারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান জাহিদ এবং ইউসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ বক্তব্য দেন।

এ সময় ইআরএফের নেতৃবৃন্দ, অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।