স্টাফ রিপোর্টার | ২২ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
পুত্রজায়া: বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী Anwar Ibrahim-এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি।”
তিনি বলেন, শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী করতে উভয় দেশ একমত হয়েছে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং শ্রমিকদের ব্যয় হ্রাস পায়।
দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম যে শুভেচ্ছা বার্তা তিনি পেয়েছিলেন, তা ছিল আনোয়ার ইব্রাহিমের। একইসঙ্গে তিনি মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন।
তারেক রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম বিদেশ সফরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়ায় আসতে পেরে তিনি সম্মানিত ও আনন্দিত।
তিনি তাঁর পিতা Ziaur Rahman-এর ১৯৭৯ সালের মালয়েশিয়া সফর এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী Khaleda Zia-এর ১৯৯৩ সালের সফরের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এসব সফর দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার। পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতেই এই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠককে ফলপ্রসূ উল্লেখ করে তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, জ্বালানি, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর, হালাল শিল্প, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। একই সঙ্গে যৌথ কমিশন বৈঠক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ প্রক্রিয়া আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের পর দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় করা হয়।
মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছে।
রোহিঙ্গা ইস্যু প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার অব্যাহত সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রত্যাশা করে। পাশাপাশি আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি)-এ যোগদানের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আগ্রহ রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতেও দুই দেশের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তাঁর সহধর্মিণীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।





