স্টাফ রিপোর্টার | ২৩ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
ঢাকা: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মাঠ পর্যায়ে নিষিদ্ধ থাকবে।
তিনি বলেন, দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, তা সম্পূর্ণ আদালত ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)-এর এখতিয়ার।
আজ সকালে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিচার না হওয়া পর্যন্ত দলটি কোনো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামলে সেটি আইন ভঙ্গের শামিল হবে এবং সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, তা আদালতের রায়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। আইসিটিতে মানবতাবিরোধী অপরাধে দলটির সম্পৃক্ততা ছিল কি না, সেই বিচারিক প্রক্রিয়ার ফলাফলের ওপর বিষয়টি নির্ভর করছে।
তিনি আরও বলেন, বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটি বিচারাধীন অবস্থায় থাকবে এবং সে সময় তাদের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ যদি কোনো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করে, তাহলে তা আইন লঙ্ঘনের সামিল হবে এবং সরকার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
মাঠের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচি পালনের নৈতিক সাহস নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে জনগণ যে অবস্থান নিয়েছিল, তার বিপরীতে অভিযুক্তদের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল।
ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী লীগের বড় ধরনের কিছু করার সক্ষমতা না থাকলেও তাদের কাছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ রয়েছে বলে সরকারের ধারণা। সেই অর্থ ব্যবহার করে নাশকতা বা সহিংসতা সৃষ্টির আশঙ্কা থেকে জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণের আইনি বিষয় নিয়ে তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলকে গণতান্ত্রিক হতে হয়। জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধে সংগঠন হিসেবে কোনো দলের সম্পৃক্ততা ছিল কি না, সেটি বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। আদালতের রায় সবাইকে মেনে নিতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাদের অংশগ্রহণের সুযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হবে। ফলে অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ যদি কোনো অপরাধে জড়িত না থাকেন বা তার বিরুদ্ধে মামলা না থাকে, তাহলে তিনি ব্যক্তি হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তবে কোনো দলীয় ব্যানার, স্লোগান বা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করা যাবে না।
ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।





