স্টাফ রিপোর্টার | ২৩ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত তাজিয়া মিছিলসহ বিভিন্ন শোক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে সম্পন্ন করতে ব্যাপক ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। এ উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে হোসেনী দালান ইমামবাড়া-এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ তথ্য জানান মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
ডিএমপি কমিশনার জানান, এবারের আশুরা উপলক্ষে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন বিভাগ থেকে ১ থেকে ১০ মহররম পর্যন্ত মোট ৬৩টি তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১-৭ মহররমে ১০টি, ৮ মহররমে ১০টি, ৯ মহররমে ১৯টি এবং ১০ মহররমে ২৪টি মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি মিছিলের জন্য নির্ধারিত রুট ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি তাজিয়া মিছিল ও সমাবেশস্থলে ব্যারিকেড, পিকেট, লাইনিং এবং ছাদভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা থাকবে। হোসেনী দালানসহ গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ইমামবাড়াগুলো ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
নাশকতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ডিএমপির বিশেষায়িত ইউনিট, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, র্যাব এবং সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল টিম প্রতিটি ভেন্যু ও রুটে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এছাড়া আর্চওয়ে গেট ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল চেকিং নিশ্চিত করা হবে।
হোসেনী দালান ইমামবাড়ায় একটি অস্থায়ী সাব-কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বড়কাটারা ইমামবাড়া, শিয়া মসজিদ, বিবিকা রওজা এবং মিরপুর ও মোহাম্মদপুরের বিহারী ক্যাম্পসহ গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার জানান, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড, ক্রাইম সিন টিম ও ডিবিসহ অন্যান্য বিশেষায়িত ইউনিট স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।
তাজিয়া মিছিলের রুট সম্পর্কে তিনি বলেন, আগামী ২৬ জুন সকাল ১০টায় হোসেনী দালান ইমামবাড়া থেকে মিছিল শুরু হয়ে বকশীবাজার, আজিমপুর, নীলক্ষেত, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, ধানমন্ডি হয়ে ধানমন্ডি লেকের কারবালায় গিয়ে শেষ হবে। মিছিল চলাকালে নির্ধারিত রুটে ট্রাফিক ডাইভারশন কার্যকর থাকবে।
তিনি নগরবাসীকে তীব্র যানজট এড়াতে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার অনুরোধ জানান।
দীর্ঘ মিছিল ও জমায়েতের কথা বিবেচনায় রেখে ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার টেন্ডার, অ্যাম্বুলেন্স এবং ধানমন্ডি লেক সংলগ্ন এলাকায় দক্ষ ডুবুরি দল মোতায়েন রাখা হবে বলেও জানান তিনি।
আয়োজক কমিটিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবককে পরিচয়পত্র বা নির্দিষ্ট পোশাকসহ দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মিছিলে কোনো ধরনের ধারালো অস্ত্র, দাহ্য পদার্থ, ব্যাগ, পোটলা বা সন্দেহজনক বস্তু বহন করা যাবে না। নিশানের উচ্চতা ১২ ফুটের বেশি হওয়া যাবে না। উচ্চ শব্দের যন্ত্র, ঢাক-ঢোল, আতশবাজি ও পটকা ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
অনলাইন গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞ টিমের মাধ্যমে সাইবার পেট্রোলিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটরিং কার্যক্রমও চলমান থাকবে বলে জানান তিনি।
কোনো ইমামবাড়া বা মিছিলের রুটে সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ, ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান ডিএমপি কমিশনার।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইমামবাড়ার নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ধর্মীয় সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতায় পবিত্র আশুরার সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হবে।
ব্রিফিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





