দুই বছরের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সব বকেয়া ভাতা পরিশোধ করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী

জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে ভাতা বিতরণ শুরু, শিক্ষাখাতে বাজেট বৃদ্ধি ও নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার | ২৪ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ২০২২ সাল থেকে আটকে থাকা অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবসর ভাতার বকেয়া আগামী দুই বছরের মধ্যে পরিশোধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বুধবার সকালে রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত চার শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রফেসর সৈয়দ মো. আক্তারুজ্জামান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হামিদুর রহমান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২২ সাল থেকে অবসরে যাওয়া কোনো শিক্ষক এখন পর্যন্ত অবসর ভাতার অর্থ পাননি। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে এ তহবিলের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এই মানবিক সংকট সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আসন্ন জুলাইয়ের বাজেটে এ খাতে অতিরিক্ত ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি একটি বিশেষ বন্ডের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। আগামী জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ভাতা বিতরণ শুরু হবে।

ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সব পাওনা পরিশোধ করে দীর্ঘদিনের জট দূর করা হবে।

শিক্ষা খাতের বিভিন্ন সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি মামলার কারণে ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ আটকে আছে। এর মধ্যে আরও ১৭ হাজার শিক্ষক অবসরে গেছেন। বর্তমানে দেশের ৬০ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নতুন বাংলাদেশে শিক্ষা খাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা রাজনীতি বরদাশত করা হবে না। শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে সরকার বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সরকারি পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেসরকারি শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করতে সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে।

মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাজেট বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিগত সময়ে শিক্ষাখাতে বাজেট ছিল ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। বর্তমানে এ খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে।

এই বাজেটের মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, মিড-ডে মিল কর্মসূচি এবং কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

ড. এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পরিমার্জিত নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তক প্রস্তুত করে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য জুতা, মোজা, ব্যাগ ও ড্রেস বিতরণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি শিক্ষকদের ট্যাবলেট এবং বিদ্যালয়ে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপনের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষা কর্মকর্তাদের কার্যক্রম তদারকি করা হবে এবং দায়িত্বে অবহেলা করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতবিনিময় সভায় ঢাকা, ময়মনসিংহ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং জেলা-উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।