ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫: পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলন নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম।
তিনি বলেন, “আজকে অনেকেই বলছেন অমুকের নেতৃত্বে পিআর পদ্ধতির দাবিতে যুগপৎ আন্দোলন হচ্ছে। আমি সেই সমস্ত সাংবাদিক বন্ধুদের বলব—বিষয়টা শেখেন, যুগপৎ আন্দোলন প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে করে, কারো নেতৃত্বে করে না। লিখবেন, বলবেন, দাড়ি-কমা যেন ঠিক থাকে।”
বৃহস্পতিবার বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে পাঁচ দফা দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সমাবেশ করে। একই সময়ে দক্ষিণ গেটে জামায়াতে ইসলামী ও প্রেস ক্লাবের সামনে আরও দুটি ইসলামী দল সমাবেশ আয়োজন করে। সমাবেশ ও মিছিলের কারণে বায়তুল মোকাররম থেকে প্রেস ক্লাব সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
ইসলামী আন্দোলনের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ফয়জুল করীম, যিনি চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের ভাই।
পিআর পদ্ধতি নিয়ে বক্তব্য
ফয়জুল করীম বলেন, দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে। বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “যদি বিএনপির দাবি মতো দেশের ৯০% ভোট তাদের হয়, তাহলে পিআর পদ্ধতিতে তাদের আসন সংখ্যা ২৭০-এর উপরে হবে। তাহলে তাদের এই পদ্ধতিতে সমস্যা কোথায়?”
তিনি আরও বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার শুধু নির্বাচনের জন্য বসে নাই; সংস্কার, বিচার এবং তার পর নির্বাচন—এই পথেই এগোতে হবে। আপনি সংস্কার ও বিচার ছাড়া কীভাবে নির্বাচন দেন?”
পিআর পদ্ধতি নিয়ে ঐকমত্য না হলে গণভোটের দাবিও জানান তিনি।
ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে ফয়জুল করীম বলেন, “আমি মনে করি, ভারত চায় না জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে। আপনারা কি ভারতের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাচ্ছেন?”
অন্যান্য দাবি
বক্তব্যে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীতের শিক্ষক নিয়োগের বিরোধিতা করে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান। তিনি বলেন, “ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। আর সংগীত-নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিলে আপনাদের মসনদ থাকবে না।”
সমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের অন্যান্য নেতারা বিএনপিকে “চাঁদাবাজ, দখলবাজ, খুনি ও দুর্নীতিবাজ” আখ্যা দিয়ে বলেন, তাদের হাতে দেশকে তুলে দেওয়া হবে না।





