মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন,
“অনৈক্য থেকে যদি বের হয়ে না আসতে পারেন আর সেই ফাঁক দিয়ে যদি স্বৈরাচার ঢুকে যায়, এর দায় দায়িত্ব জাতি একদিন আপনাদের ওপর চাপাবে। মনে রাখতে হবে—দয়া করে স্বৈরাচার ফেরত আসার পথ সুগম করবেন না।”
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল তিনটায় মৌলভীবাজার পৌর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডা. জাহিদ বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান স্বৈরাচার হওয়ার কথা বলে না, দায় তাদের যারা জনগণের ভোটকে অপ্রয়োজনীয় মনে করে রাতের ভোট, বিনা ভোটের নির্বাচন ও প্রশাসন কব্জা করে ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়। তিনি বলেন, “স্বৈরাচারকে রুখতে হলে রাজনৈতিক মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে, নিজেদের আমিত্ব থেকে বের হতে হবে।”
পিআর পদ্ধতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি অনেক গণতান্ত্রিক দেশে নেই। জনগণ চাইলে বিএনপি সংস্কার মেনে নেবে, কিন্তু এ অজুহাতে নির্বাচন পিছানো যাবে না। এতে স্বৈরাচারের সুযোগ তৈরি হবে।”
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারা দেশের গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল। “আজ কেন সেই টেবিল ছেড়ে রাজপথে নামলেন? অনৈক্য কাটিয়ে উঠতে না পারলে ফেরত আসবে স্বৈরাচার, দায় আপনাদেরই বহন করতে হবে।”
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন পৌর বিএনপির আহবায়ক সৈয়দ মমশাদ আহমদ এবং সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. আব্দুর রহিম রিপন। প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দীকি, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি এম নাসের রহমান ও জেলা বিএনপির আহবায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন।
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে গোপন ব্যালটে পৌর বিএনপির নেতৃত্ব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নয়টি ওয়ার্ডের ৬৩৯ জন ভোটার উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেন। দীর্ঘদিন পর গোপন ব্যালটে নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার সুযোগ পেয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। ভোট গণনা চলমান রয়েছে।





