‘বাংলাদেশে কেউ সম্প্রদায় নন, সকলেই নাগরিক’ — সালাহ উদ্দিন আহমদ

‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’— বিএনপির নীতি পুনর্ব্যক্ত

Posted by:

on

ঢাকা, সোমবার:
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে কেউ সম্প্রদায় নয়, সকলেই নাগরিক। সোমবার রাতে ঢাকেশ্বরী পূজামণ্ডপে পুণ্যার্থীদের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “আমরা কেউ সম্প্রদায় নই, বাংলাদেশের সবাই সিটিজেন। এদেশের সবাই যার যার ধর্ম চর্চা স্বাধীনভাবে করবে। নিজেদের পরিচয় হবে নাগরিক হিসেবে, সম্প্রদায় হিসেবে নয়।”

সালাহ উদ্দিন আহমদ জানান, বিএনপির নীতি হচ্ছে— “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তার অধিকার সবার। সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব।”

তিনি আরও বলেন, অতীতে রাজনৈতিক স্বার্থে ফ্যাসিবাদী শক্তি সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে। ভোটের বাক্স হিসেবে ব্যবহারের সেই চর্চা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

নির্বাচন প্রসঙ্গ

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি করে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। তিনি সতর্ক করে বলেন, “এখন যারাই নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টা করবে, জনগণ তাদের চিহ্নিত করবে।”

বিএনপির এ নেতা দাবি করেন, ১৬ বছর ধরে গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন চলছে। তাই নির্বাচন ব্যাহত করার যে কোনো অপচেষ্টা জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে।

সংখ্যালঘুদের দাবি ইশতেহারে

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দাবি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত হবে বলেও আশ্বাস দেন সালাহ উদ্দিন। তিনি জানান, দেবোত্তর সম্পত্তি, অর্পিত সম্পত্তি, সংখ্যালঘু কমিশন ও ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং সেগুলো ইশতেহারে স্থান পাবে।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলিম, পাহাড়ি-সমতলের সব নাগরিকের সমন্বয়ে ঐক্যবদ্ধ রাজনীতি করতে চাই আমরা। ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করি না, কখনো করিনি।”

নিরাপত্তার আশ্বাস

সালাহ উদ্দিন আহমদ পূজার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আমাদের দলের সকল নেতা-কর্মী দুর্গাপূজার প্রতিটি অনুষ্ঠানকে পাহারা দেবে, নিরাপত্তা দেবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে। তবে বিএনপি অতীতেও তা সফল হতে দেয়নি, ভবিষ্যতেও দেবে না।

অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালামও বক্তব্য রাখেন। পরে রাতে বনানীর পূজামণ্ডপও পরিদর্শন করেন বিএনপি নেতারা।