অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বেঁধে দেওয়ার এখানে কোনো এখতিয়ার নেই— বিএনপি আলোচনায় সার্বক্ষণিক আগ্রহী কিন্তু রেফারির ভূমিকাই প্রত্যাশিত ছিল

ঢাকা │ ৮ নভেম্বর ২০২৫ │ নিজস্ব প্রতিবেদক │ নিউজ চ্যানেল বিডি:বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের…

Posted by:

on

ঢাকা │ ৮ নভেম্বর ২০২৫ │ নিজস্ব প্রতিবেদক │ নিউজ চ্যানেল বিডি:
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা আহ্বান জানালে বিএনপি আলোচনায় বসতে রাজি আছে, তবে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলকে মধ্যস্থ করে আহ্বান জানানো গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি এটাও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের এইভাবে সময় বেঁধে দেওয়ার কোন এখতিয়ার নেই।

শনিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলস্থ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ছাত্রদলের উদ্যোগে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মূল আলোচক হিসেবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।


সালাহউদ্দিনের বক্তব্যের মূলাংশ

সালাহউদ্দিন বলেন, তারা মনে করেছিলেন — জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রেফারির ভূমিকা পালন করবে এবং অন্তর্বর্তী সরকার অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু এখন “রেফারি হয়ে হাত দিয়ে একটা গোল দিয়ে দেওয়া” হচ্ছে; এরপর রাজনৈতিক দলগুলোকে সাত দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হচ্ছে—এভাবে ডিকটেট করা চলবে না।

তিনি আরও বলেন,

“অন্তর্বর্তী সরকারের এভাবে সময় বেধে দেওয়ারও এখতিয়ার নেই। আপনারা কোনো নির্বাচিত সরকার নন—এটি আপনারা যেন সবসময় মনে রাখেন। আমাদেরকে ডিকটেট করার এখতিয়ার আপনারা রাখেন না।”

সালাহউদ্দিন সংবিধানিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা রক্ষার তাগিদ দিয়ে বলেন, যদি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সরাসরি আমাদের আহ্বান জানান কোনো বিষয়ে আলোচনা করার জন্য — আমরা সর্বসময় আলোচনায় আগ্রহী এবং যাব। তবে কেন অন্য কোনো রাজনৈতিক দল দিয়ে আমাদেরকে আহ্বান জানানো হচ্ছে—এ প্রশ্ন করেছেন তিনি।


জামায়াত ও জাতীয় পার্টি-সংক্রান্ত সতর্কবার্তা

জামায়াতে ইসলামী ও ইতিহাস বিকৃতিকরণ নিয়ে তীব্র শাব্দিকতায় সালাহউদ্দিন বলেন, যারা ১৯৭১’র বিপরীত পথে ছিলেন বা ১৯৪৭’র বিপরীত পথে যাত্রা শুরু করেছিলেন, তারা যদি আবার কোনো বড় রাজনৈতিক শক্তির মাধ্যমে পুনরুত্থান চান—তার পরিণতি অজান্য। তিনি বলেন, এমনকী তা “পতিত ফ্যাসিস্ট” ও অগণতান্ত্রিক শক্তিকে উৎসাহিত করবে।

জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন,

“আপনারা ঘি খেতে চান, খান; কিন্তু আমরা বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথের এই ময়দানকে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে উত্তপ্ত হতে দেব না।”


অনুষ্ঠান ও উপস্থিতি

সভায় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির (নাছির) সঞ্চালনা করেন। আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ছাত্রদল, বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-উপস্থাপিতরা উপস্থিত ছিলেন।