কিছু দল নিজেরাই দেশের মালিক হতে চাইছে: আমীর খসরু

জনগণের মালিকানা নিশ্চিত করতে ১৭ বছর ত্যাগ করেছে মানুষ— ঐকমত্যের বাইরে গিয়ে নিজেদের দাবি চাপিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়: বিএনপি নেতা

Posted by:

on

ঢাকা │ ৮ নভেম্বর ২০২৫ │ নিজস্ব প্রতিবেদক │ নিউজ চ্যানেল বিডি:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর কিছু রাজনৈতিক দল নিজেদের দেশের মালিক বানাতে চাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, “জনগণের মালিকানা নিশ্চিত করার জন্য গত ১৭ বছর এ দেশের মানুষ ত্যাগ স্বীকার করেছে। কিন্তু এখন কিছু কিছু রাজনৈতিক দল নিজেরাই মালিক হয়ে যেতে চাইছে। মালিক তো জনগণ, দল নয়।”

শনিবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘জনতার ইশতেহার’ ও ‘অনলাইন প্রমিজ ট্র্যাকার’ ওয়েবসাইট ও অ্যাপ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্যানেল আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ট্রেস কনসালটেন্সি।


ঐকমত্যের সনদকে সম্মান জানানোর আহ্বান

আমীর খসরু বলেন,

“দীর্ঘ আলোচনার পর আমরা একটি ঐকমত্যে পৌঁছেছি, সনদে স্বাক্ষর করেছি। তাই সেই সনদকে সম্মান করতে হবে। এর বাইরে গিয়ে নতুন ইস্যু তৈরি করা মানে ঐকমত্যের প্রতি অসম্মান করা।”

তিনি আরও বলেন,

“শেখ হাসিনার ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কারণে আমাদের মধ্যে একধরনের স্বৈরাচারী মানসিকতা তৈরি হয়েছে। মনে হচ্ছে, সনদে আমার দাবি না থাকলে তা গ্রহণযোগ্য নয়—এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে। এটা গণতান্ত্রিক মানসিকতা নয়।”

বিএনপি নেতা বলেন, জুলাই সনদে বিএনপির ৩১ দফার সব বিষয় না থাকলেও, জনগণ ম্যান্ডেট দিলে ভবিষ্যতে সেই দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।


গণভোট প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা

গণভোট নিয়ে আমীর খসরু বলেন,

“বর্তমান সংবিধানের পরিপ্রেক্ষিতেই অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে। এই সংবিধানে গণভোটের বিধান নেই। গণভোট করতে হলে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সংসদে গিয়ে তা পাস করাতে হবে।”


ঐকমত্যের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত

তিনি বলেন,

“জুলাই সনদের বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও ঐকমত্য থাকতে হবে। ঐকমত্যের বাইরে গিয়ে কোনো দল নিজের দাবি চাপিয়ে দিতে পারে না। যাদের অন্য দাবি আছে, তারা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সংসদে এসে সেই দাবি তুলুক।”


আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকী, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, এবং বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক আবদুস সাত্তার দুলাল।

সেশনের মডারেটর ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাহাব এনাম খান।
অনুষ্ঠানে ‘জনতার ইশতেহার’ ও ‘অনলাইন প্রমিজ ট্র্যাকার’-এর উদ্বোধন করেন ট্রেস কনসালটেন্সির সিইও ফুয়াদ মুহাম্মদ খালিদ হোসেন।