স্টাফ রিপোর্টার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
বিএনপির মনোনীত ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, “বেগম খালেদা জিয়ার মতো নেত্রী হাজার বছরে একজন আসে কি না—এ নিয়েই আমার গভীর সন্দেহ আছে।”
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধূপখোলা গেন্ডারিয়া কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন। মাহফিলটি ছিল বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় আয়োজিত।
ইশরাক হোসেন বলেন, “একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন এবং জনগণের ভালোবাসায় তিনবার ক্ষমতায় আসা—এমন উদাহরণ ইতিহাসে বিরল। বহু নেতা এসেছেন, আবার আসবেনও; কিন্তু খালেদা জিয়ার মতো আপসহীন, সাহসী, দেশপ্রেমিক নেত্রী খুব কমই দেখা যায়।”
সম্প্রতি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “গত কয়েক দিন আমাদের জন্য ছিল অত্যন্ত কষ্টের। তাঁর গুরুতর অসুস্থতার খবরে সারা বিশ্ব উদ্বিগ্ন হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা জানতে পেরেছি তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আমরা দোয়া করি তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসেন।”
খালেদা জিয়ার কারাবন্দি জীবনের প্রসঙ্গ তুলে ইশরাক বলেন, “৭৬ বছর বয়সে লিভার সিরোসিসসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত অবস্থায় তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। তৎকালীন সরকার আপসের প্রস্তাব দিয়েছিল—নির্বাচনে অংশ নিলে মামলা তুলে নেওয়া হবে, চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হবে। কিন্তু তিনি এক মুহূর্তের জন্যও সেই প্রস্তাবে রাজি হননি।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জনগণের ভোটাধিকারের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি। ভবিষ্যতে তাঁর সংগ্রাম, তাঁর ভূমিকা নিয়ে গবেষণা হবে—এটাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস।”
খালেদা জিয়ার আন্তর্জাতিক মর্যাদা সম্পর্কেও তিনি বলেন, “আজ তিনি শুধু বিএনপির নেত্রী নন, তিনি বিশ্বনেতাদের কাছেও সম্মানের প্রতীক। এমনকি যারা তাঁকে কারাবন্দি করার পেছনে ভূমিকা রেখেছিল, তারাও আজ তাঁর রোগমুক্তি কামনা করছেন—এটাই তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রামের শক্তি।”
গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে ইশরাক বলেন, “যদি দেশনেত্রী ২০১৮ সালের পর থেকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ভিত্তি রচনা না করতেন, তাহলে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সম্ভব হতো না। তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারকে ১০০ বছরেও সরানো যেত কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। তাঁর পুত্র তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই আন্দোলন সামনে এগিয়ে যায়।”
দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, জিন্টু আহমেদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সাত্তার, সাইদুর রহমান মিন্টু, মকবুল ইসলাম খান টিপু, মোঃ ফরিদ উদ্দিন, মোঃ শরিফ হোসেনসহ ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, কৃষক দলের নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠানের শেষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রিন্সিপাল শাহ মোহাম্মদ নেছারুল হক।





